Advertisement
  • বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

মোদি-পেজেসকিয়ান বৈঠকে ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন! ইরানকে সাহায্য করলে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি 

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মোদি-পেজেসকিয়ান বৈঠকে ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন! ইরানকে সাহায্য করলে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি 

কিরঘিস্তানে অনুষ্ঠিত ২৬তম ‘সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলন’-এর ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক ঘিরে নতুন করে চর্চায় ভারত-মার্কিন সম্পর্ক। মোদি-পেজেসকিয়ান বৈঠক নিয়ে এবার প্রকাশ্যে অসন্তোষের বার্তা দিল আমেরিকা। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো দেশেরই ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা উচিত নয়।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, বিভিন্ন দেশ নিজেদের বিদেশনীতি ও জাতীয় স্বার্থের অংশ হিসেবে ইরান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে— এ বিষয়ে ওয়াশিংটন অবগত। তাঁর কথায়, আমেরিকাও অতীতে তেহরানের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে। কিন্তু সমস্ত আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। রুবিও আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো দেশ যেন ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য না করে। শুধু তাই নয়, এমন কোনও ব্যবস্থা বা পরিকাঠামো তৈরিতেও কোনো দেশের সহযোগিতা করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে ইরান অর্থ উপার্জনের সুযোগ পায়। কারণ, সেসব অর্থ ব্যবহার করে ইরান সন্ত্রাসবাদে মদত দিতে কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা ওয়াশিংটনের।

এরপরই দিল্লির দিকে ইঙ্গিত করে মার্কিন বিদেশসচিবের হুঁশিয়ারি, কোনো দেশ যদি জেনেশুনে ইরানকে এমনভাবে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সে দেশের বিরুদ্ধেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হতে পারে। এদিকে, মোদি ও পেজেসকিয়ানের বৈঠকের পরই জল্পনা শুরু হয়েছে যে ভারত ও ইরান হয়তো নতুন কোনো বাণিজ্যচুক্তির দিকে এগচ্ছে। তবে সে সম্ভাবনার কথা কার্যত খারিজ করে দিয়েছেন রুবিও। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ইরানের সঙ্গে ভারতের মতো দেশগুলির যোগাযোগকে ওয়াশিংটন নজরে রাখছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও ইরানের মধ্যে যৌথ সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেন মোদি ও পেজেসকিয়ান। বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি-সহ দেশটির একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। ফলে একদিকে ‘এসসিও’-র মঞ্চে ভারত-ইরানের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কড়া সতর্কবার্তা— মোদি-পেজেসকিয়ান বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত স্পষ্ট।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!