- দে । শ
- মে ২৫, ২০২৬
অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ধৃতদের জন্য জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’, নির্দেশ নবান্নের
বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃত ব্যক্তিদের রাখার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিল নবান্ন। রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই সমস্ত কেন্দ্রে সন্দেহভাজনদের সর্বাধিক ৩০ দিন পর্যন্ত আটক রাখা যাবে। শুধু নতুন করে ধৃত ব্যক্তিরাই নন, যাঁরা আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং বর্তমানে মুক্তি পেলেও তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাঁদেরও এই কেন্দ্রগুলিতে রাখা হতে পারে।
এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছিল। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, পূর্বতন সরকার কেন্দ্রের সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি। তিনি জানান, তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এ সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যাঁরা সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় পড়েন না, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে এবং সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। পরে বিএসএফ তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই রাজ্য সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা হিসেবে যাঁরা বেআইনি ভাবে এ রাজ্যে বসবাস করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন, তাঁদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। সেই উদ্দেশ্যে জেলাগুলিতে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরি করা হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেল থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের রাখার জন্য এই কেন্দ্রগুলি ব্যবহার করা হবে।”
এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি, সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছে। পাশাপাশি কলকাতা-সহ রাজ্যের প্রতিটি পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারদেরও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের ২ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স ডিভিশন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে একটি আট পাতার নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল। সেই নির্দেশিকাতেও ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কথা উল্লেখ ছিল। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিক বলে সন্দেহ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে আটক করতে পারবে এবং ৩০ দিন পর্যন্ত ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ রাখা যাবে। এই সময়ের মধ্যে তাঁর নথিপত্র যাচাই করে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক।
অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ নীতি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রতিটি জেলায় পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গঠন করা হবে। যাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে শনাক্ত করা হবে, তাঁদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করা হবে। এরপর তাঁদের বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং ভারতে তাঁদের ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করা হবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা উপকূলরক্ষী বাহিনী সরাসরি ‘হোল্ডিং সেন্টার’ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নিতে পারবে এবং প্রয়োজনে সীমান্ত পার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারবে।
❤ Support Us






