Advertisement
  • এই মুহূর্তে প্রচ্ছদ রচনা স | হ | জ | পা | ঠ
  • জুলাই ৩০, ২০২৫

ইসরো-নাসার যৌথ অভিযান, মহাকাশের পথে পাড়ি নিসারের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইসরো-নাসার যৌথ অভিযান, মহাকাশের পথে পাড়ি নিসারের

শুভাংশু শুক্লার অ্যাক্সিওম–৪ মিশনের সাফল্যের পর নতুন অভিযানে নামছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে যৌথভাবে এবার মিশনে । বুধবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশকেন্দ্র থেকে ভারতের শক্তিশালী জিএসএলভি-এমকে ২ রকেটের সাহায্যে মহাকাশে পাড়ি দিল এই কৃত্রিম উপগ্রহ।

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম উপগ্রহ হিসেবে ‘নিসার’ ব্যবহার করছে নাসা নির্মিত এল-ব্যান্ড এবং ইসরোর এস-ব্যান্ডের দ্বৈত ফ্রিকোয়েন্সির রাডার। এই রাডার প্রযুক্তি পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠে মিলিমিটার স্তরের ন্যূনতম পরিবর্তনও নিরীক্ষণ করতে পারবে। ফলে, এই স্যাটেলাইট হিমবাহের গলন, ভূমিধস, ভূকম্পন, বনাঞ্চলের হ্রাস, এমনকি কৃষি জমির অবস্থা সম্পর্কেও বিশ্লেষণসহ তথ্য দেবে। সেসব তথ্যের ভিত্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কৃষি নীতি নির্ধারণ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর যেসব অংশ এতদিন নজরদারির বাইরে ছিল, সেখানেও পৌঁছতে পারবে নিসার। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ বলেছেন, ‘এই উপগ্রহ কেবল প্রযুক্তির প্রতিফলন নয়, বরং এটি ভারতের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’ তাঁর মতে, ‘নিসার প্রকল্প’ দেখিয়ে দিচ্ছে, বিশ্বকল্যাণের লক্ষ্যে একত্রে কাজ করতে দুই শক্তিশালী দেশ কতটা সক্ষম। এ উদ্যোগ কেবল বিজ্ঞান নয়, বরং একটি আদর্শ সহযোগিতার প্রতীক হিসাবে অভিহিত করেছেন প্রযুক্তিমন্ত্রী।

এই মিশনে মোট বিনিয়োগ করা হয়েছে ১২,৫০০ কোটি টাকা। ভারতের বিনিয়োগের পরিমান প্রায় ৭৮৮ কোটি টাকা। প্রকৌশলগত বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ।  উপগ্রহটি প্রতি ৯৭ মিনিটে একবার করে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে এবং মাত্র ১২ দিনের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় সমগ্র ভূমি এবং বরফাবৃত পৃষ্ঠের মানচিত্র তৈরি করবে। এর তথ্য উন্মুক্ত এবং গবেষকদের জন্য উপলব্ধ হবে। এটাকে বিজ্ঞানী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপকদের জন্য একটা মূল্যবান হাতিয়ার করে তুলবে।

অন্য উপগ্রহগুলির থেকে নিসারের পার্থক্য হল, এটা বিশ্বের প্রথম ডুয়েল ফ্রিকোয়েন্সি সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার, যা নাসার এল–ব্যান্ড রাডার এবং ইসরোর এস–ব্যান্ড রাডারকে একত্রিত করে। এই অনন্য সেটআপটি মেঘ, ঘন জঙ্গল, ধোঁয়া এবং অন্ধকারের মধ্য দিয়ে দেখতে এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠের ক্ষুদ্র পরিবর্তনগুলি সনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই ক্ষমতার সাহায্যে নিসার হিমবাহের গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারে, ভূমিকম্পের চ্যুতি স্থানান্তর পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং ভূগর্ভস্থ জলের ক্ষতির কারণে শহরগুলিতে ভূমির অবনমন পরিমাপ করতে পারে, যা আমাদের গ্রহের পরিবর্তনগুলি বোঝার এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে একটি যুগান্তকারী উপায় প্রদান করবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!