- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ২১, ২০২৬
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনা
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ, কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক রদবদলের জল্পনার আবহে বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজধানীর সেবা তীর্থে আয়োজিত এই বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজের খতিয়ান, ভবিষ্যৎ নীতিগত পরিকল্পনা, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সঙ্কটের প্রভাব— সব কিছু নিয়েই বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তবে সবচেয়ে আগ্রহের বিষয়, আলোচনায় মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীরাও। চলতি বছরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈঠক। ফলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক— দু–দিক থেকেই এ বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্রের অন্দরের একাংশ। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য হতে চলেছে বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন। গত এক বছরে কোন দফতর কতটা কার্যকরভাবে কাজ করেছে, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে কোথায় গতি এসেছে, কোথায় ঘাটতি রয়ে গিয়েছে এবং আগামী দিনে কোন খাতে আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন— তার বিস্তারিত পর্যালোচনা হতে পারে। শুধু কাজের খতিয়ান নয়, ভবিষ্যতের রূপরেখাও এই বৈঠকে স্থির হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রকের বরাদ্দ, ব্যয়সংকোচন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং নতুন অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রকল্পগুলি। সরকারি প্রকল্প সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছচ্ছে, বাস্তব স্তরে তার প্রভাব কতটা, সে বিষয়েও মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছ থেকে রিপোর্ট চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রকল্পের শেষ স্তর পর্যন্ত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে আরও কড়া নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তবে প্রশাসনিক মূল্যায়নের বাইরেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠতে চলেছে। বিশেষত পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার জেরে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র। হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য ব্যাঘাত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ এবং মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা ভারতের অর্থনীতির উপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হতে পারে।
সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগকে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিতে পারেন পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিতে কী করণীয়, তা নিয়ে। বিশেষ নজর রাখা হতে পারে জ্বালানি, কৃষি, লজিস্টিক, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, বিমান পরিবহণ এবং নৌ-বাণিজ্যের উপর। যুদ্ধ পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাত মোকাবিলায় বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা, মজুত নীতি এবং আমদানি খরচ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।ইতিমধ্যেই কেন্দ্র পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ শুরু করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রীগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। গোষ্ঠীতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। কেন্দ্র সরকার সমগ্র পরিস্থিতির উপর ‘রাউন্ড দ্য ক্লক’ নজরদারি চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন রাজনাথ। এ দিকে, দেশের বিভিন্ন শহরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিও কেন্দ্রের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দিল্লিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ফের বেড়েছে। কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাই-সহ প্রায় সব বড়ো শহরেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা বজায় থাকলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা অর্থনৈতিক মহলের।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা রদবদলের জল্পনা। আগামী ১০ জুন মোদী ৩.০ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি। তার আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণ হতে পারে বলে কয়েক সপ্তাহ ধরেই জোর জল্পনা চলছে রাজধানীর বাতাসে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে বদল, নতুন মুখকে দায়িত্ব দেওয়া ও সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষার মতো বিষয় নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও সূত্রের খবর। বৃহস্পতিবারের বৈঠক সম্ভাব্য রদবদলের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক চর্চা তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি, বৈঠকে বিশেষ ভাবে উঠে আসতে পারে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং পুদুচেরির রাজনৈতিক পরিস্থিতিও। সম্প্রতি পুদুচেরিতে পুনরায় এনডিএ সরকার গঠন এবং পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যকে সামনে রেখে আগামী রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বাড়তি আগ্রহ রয়েছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।
উল্লেখ্য, ৫ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি সফরে গত কয়েক দিনে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, সবুজ শক্তি, প্রতিরক্ষা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করাই ছিল সফরের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি-র সঙ্গে বৈঠকের পর ভারত-ইতালি সম্পর্ককে ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করার ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দু–দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, সংযোগ ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই নেতা।
❤ Support Us





