Advertisement
  • দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬

‘মাদক, স্ক্রিন-টাইমে পড়ুয়ার শৈশব হারিয়ে যেতে দেবেন না’ : শিক্ষকদের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘মাদক, স্ক্রিন-টাইমে পড়ুয়ার শৈশব হারিয়ে যেতে দেবেন না’ :  শিক্ষকদের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষকদের পড়ুয়াদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অতিরিক্ত স্ক্রিন-টাইম কমাতে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষক দিবসের আগে, শুক্রবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই আলোচনায় তিনি বলেন, সমাজের প্রত্যেকেরই উচিত পড়ুয়াদের সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকদের শুধু পড়াশোনায় পড়ুয়াদের সাফল্যের দিকে নজর রাখলেই হবে না। তাঁদের পড়ুয়াদের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের দিকেও নজর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যৌথ পরিবারের কাঠামো ক্রমশ কমে আসায় শিশুদের জীবনে শিক্ষকদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাদকাসক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড়ো বড়ো শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, কে কার কাছে মাদক সরবরাহ করছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই সহজে জানা যায় না।

এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে উদ্যোগী হওয়ার পাশাপাশি কোনো পড়ুয়ার আচরণে বা স্বভাবে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে কি না, সেটিও খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে বলে জানান মোদি। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের শিশুদের শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ ও কৌতূহলকে রক্ষা করার এবং তাঁদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘কোনো পড়ুয়ার শৈশবকে হারিয়ে যেতে দেবেন না। পড়ুয়াদের জীবনে শৈশবকে বাঁচিয়ে রাখাই শিক্ষকদের সবচেয়ে বড়ো অবদান হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের বই ও নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমের গণ্ডি পেরিয়ে পড়ুয়াদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে এবং তাঁদের বাস্তব জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানাতে হবে।

স্ক্রিন-টাইমের প্রসঙ্গেও শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা বর্তমানে পড়ুয়াদের মধ্যে অন্যতম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষকদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে হবে, তাঁদের সন্তানরা প্রতিদিন কতক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার করছে এবং রাত জেগে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে কি না। মোদি বলেন, খেলাধুলা, শারীরিক কসরত, বাইরের মাঠে বিভিন্ন ধরনের খেলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রতি শিশুদের আগ্রহ তৈরি করা গেলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের স্ক্রিন-টাইম কমানো সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মধ্যে একই ধরনের মৌলিক স্বভাব ও কৌতূহল রয়েছে। শিক্ষকরা যদি সেই কৌতূহলকে সঠিকভাবে লালন করেন এবং ইতিবাচক পথে পরিচালিত করেন, তাহলে শিশুদের বিকাশে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। ‘জাতীয় শিক্ষা নীতি’-র প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, পড়ুয়াদের শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁদের বাস্তব জগতের সঙ্গে পরিচয় করানো জরুরি। বিভিন্ন বাস্তবমুখী দক্ষতা এবং নানা ধরনের কাজের সঙ্গে শিশুদের যুক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

এদিন এক শিক্ষিকা তাঁর এলাকার মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, তাঁর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতেও স্তন ক্যানসার নিয়ে একটি সচেতনতা অভিযান শুরু করা হয়েছিল।
মোদি বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আরও বেশি সংখ্যক মহিলা স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিংয়ের জন্য এগিয়ে আসছেন। এমনকি এর ক্ষেত্রে একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও তৈরি হয়েছে।’

এ বছর তিনটি দফতরের অধীনে মোট ৮২ জন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদকে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতর: ৪৮ জন শিক্ষক।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পলিটেকনিক: ২১ জন শিক্ষক/ফ্যাকাল্টি সদস্য। দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা মন্ত্রক: ১৩ জন স্কিল ট্রেনার। শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই মতবিনিময়ের ভিডিও শনিবার প্রকাশ করা হয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!