Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ১৬, ২০২৫

বিকাশ ভবনের সামনে উত্তেজনা অব্যহত। ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের আন্দোলনে বলপ্রয়োগের অভিযোগ, পাল্টা যুক্তি পুলিশের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিকাশ ভবনের সামনে উত্তেজনা অব্যহত। ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের আন্দোলনে বলপ্রয়োগের অভিযোগ, পাল্টা যুক্তি পুলিশের

বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার সকাল থেকেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিকাশ ভবনের সামনের চত্বর। এক দিকে চাকরি হারানো ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের লাগাতার অবস্থান, অন্য দিকে পুলিশি ব্যারিকেড, নিরাপত্তার চাদরে মোড়া গোটা এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয়েছে র‌্যাফ। মোতায়েন হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী। এডিজি দক্ষিণবঙ্গ, সুপ্রতীম সরকার ও এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, পুলিশের তরফে কোনও ‘বেআইনি লাঠিচার্জ’ হয়নি। পুলিশ সংযত ও দায়িত্ববোধ নিয়েই পদক্ষেপ নিয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে ‘সামান্য’ বলপ্রইয়োগ করা হয়েছে।

গত ১০ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন এসএসসি-র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির শিকার হওয়া চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে বিকাশ ভবনের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের তরফে দাবি, প্রথমে বারংবার অনুরোধ করা হলেও আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে আসেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই ‘মৃদু’ বলপ্রয়োগ করা হয়েছে বলে পুলিশের বক্তব্য। এডিজি সুপ্রতীম সরকার ও জাভেদ শামিম শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, যেরকম অভিযোগ উঠছে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে, আসল ঘটনা কিন্তু তেমন নয়, পুলিশের তরফে কোনো ‘বেআইনি লাঠিচার্জ’ করা হয়নি। বরং আন্দোলনকারীদের অনমনীয় মনোভাবের ফলেই অসুবিধায় পড়েছিলেন বিকাশ ভবনের ভিতরে আটকে থাকা অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ সরকারি কর্মী। তাঁদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও একাধিক অসুস্থ কর্মীও ছিলেন। আতঙ্কে এক জন উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে আহত হন বলেও দাবি পুলিশের। সুপ্রতীমবাবুর বক্তব্য, ‘টানা ৭ ঘণ্টা ধরে ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে চলেছিল পুলিশ। কেউ শুনল না। বিকেলে ছুটি হওয়ার পরও শত শত কর্মী ভবনের ভিতরে আটকে পড়েন। বাধ্য হয়েই বলপ্রয়োগ করতে হয়।’

অন্য দিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তারা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। কোনোরকম বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তি করেননি। সরকার এবং পুলিশ যৌথভাবে আন্দোলনকে দমন করতে মরিয়া বলেই রাতে আচমকা লাঠিচার্জ চালানো হয়। মেহবুব মণ্ডল, চিন্ময় মণ্ডলদের মতো আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক পতাকা নিয়ে আসিনি। জীবনের শেষ সম্বল, চাকরি ফিরে পাওয়ার লড়াই চালাচ্ছি। সত্যি কথা বলার শাস্তি হিসেবে লাঠির ঘা পেতে হল। তবুও দাবি না মানা পর্যন্ত সরব না।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে আহত আন্দোলনকারীদের ছবি। কারও হাত ভাঙা, কেউ মাথায় ব্যান্ডেজ পরে আবার আন্দোলনে নেমেছেন। যদিও এই ছবিগুলির সত্যতা পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনাপ্রবাহের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাঁরা বিশৃঙ্খলা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এডিজি জাভেদ শামিম বলেন, ‘৫৮টি দফতরের কর্মীরা বিকাশ ভবনে কাজ করেন। তাঁদের ঘরে ফেরার গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতেই পুলিশ এগিয়েছিল। কেউ আটকে থাকলে সেটাও তো এক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ তিনি আরো বলেন, ‘যদি বলপ্রয়োগ করতেই হত, তা হলে সকালে গেট ভাঙার সময়ই করা যেত। কিন্তু পুলিশ তা করেনি। সন্ধের পরে বাধ্য হয়েই ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে।’ শুক্রবার সকালেও পরিস্থিতি থিতিয়ে যায়নি। আন্দোলনকারীদের একাংশ ফের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। বিকাশ ভবনে যাতে কেউ আটকে না পড়েন, সেই কারণে দুপুর ৩টের মধ্যে ছুটি ঘোষণা করা হয় সব কর্মীদের জন্য। সরকারি সূত্রে খবর, কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ভবিষ্যতের। বিকাশ ভবনের সামনে এখন কার্যত পুলিশি দুর্গ। যদিও চাকরি হারানো প্রার্থীরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের চাকরি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত, আন্দোলন থেকে এক চুলও সরবেন না তাঁরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!