Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

তৃণমূলে যোগের সপ্তাহ না পেরোতেই মহম্মদ সেলিমকে আবেগঘন বার্তা প্রতীক উর রহমানের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তৃণমূলে যোগের সপ্তাহ না পেরোতেই মহম্মদ সেলিমকে আবেগঘন বার্তা প্রতীক উর রহমানের

দিন কয়েক আগেই যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন বাম নেতা প্রতীক উর রহমান। তাঁর এই সিদ্ধান্ত বাম শিবিরে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছে। মাঠে-ময়দানে দীর্ঘদিন দলের হয়ে লড়াই করা এক নেতার হঠাৎ দলবদল মেনে নিতে পারছেন না বহু নেতা-কর্মী-সমর্থক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন অনেকে, আবার কেউ কেউ কৌশলে বিষয়টি এড়িয়েও গিয়েছেন।

সিপিএমের রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করার পর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন প্রতীক উর। এমনকি তাঁকে ‘গব্বর সিং’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। পদত্যাগপত্র প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা শুরু হয় তাঁর তৃণমূলে যোগদান নিয়ে। শেষ পর্যন্ত ২১ ফেব্রুয়ারি আমতায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত থেকে দলের পতাকা তুলে নিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, সুবিধাবাদী তকমা এড়াতেই সিপিএম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছিলেন প্রতীক উর। যদিও একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, দলের কিছু নেতার আচরণই তাঁকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তাঁর বক্তব্যে যে মূলত মহম্মদ সেলিমই নিশানায় ছিলেন, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি রাজনৈতিক মহলের।

তবে সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুর নরম করেছেন প্রতীক উর। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বন্ধ ঘরে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দেখা হলে কী করবেন? উত্তরে তিনি বলেন, “সেলিমদাকে দেখলেই প্রথমে জিজ্ঞেস করব, ভালো আছেন? তারপর হাতদুটো ধরে বলব, ক্ষমা করে দিন। আপনার শেষ কথাগুলো আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, নিজের সিদ্ধান্তে বাম কর্মী-সমর্থকদের আঘাত লাগার বিষয়টি তিনি উপলব্ধি করছেন। যাঁরা তাঁকে দেখে শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার সাহস পেয়েছিলেন, তাঁদের কাছেও নিজেকে ‘অপরাধী’ বলেই মনে করছেন তিনি। একসঙ্গে মিটিং-মিছিল করা সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের কাছেও ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “জানি হয়তো পারবেন না, তাও বলব ক্ষমা করে দিন।”

এতে একাংশের জল্পনা, তৃণমূলে যোগ দিয়েই কি মোহভঙ্গ হয়েছে তাঁর? যদিও এই প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রতীক উর। তাঁর কথায়, “২০ বছর তো বামেদের দিয়েছি। তাও প্রশ্ন করতে পারিনি। আগামী ২০-৩০ বছর তৃণমূলকে দেব। দেখি না প্রশ্ন করতে পারি কি না। আমি ১০০ শতাংশ দিয়ে আগেও দল করেছি, এখনও করব। মানুষের জন্য কাজ করব। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন মানুষ পায় তা দেখব।” দলবদলের পেছনে মোটা টাকার লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। এ প্রসঙ্গে প্রতীক উরের জবাব, “আমার যে মূল নম্বর, সেটায় এখন ইনকামিং বন্ধ। রিচার্জ করার পয়সা নেই। টাকা পেলে অন্তত রিচার্জ করতাম।” পাশাপাশি হোলটাইমার হিসেবে পাওয়া সামান্য আর্থিক সহায়তার মূল্য তাঁর কাছে কতটা সম্মানের ছিল, সেটাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, দলবদলের পর বিতর্ক, ক্ষোভ ও জল্পনার আবহে একদিকে যেমন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রতীক উর রহমান, অন্যদিকে প্রাক্তন সহযোদ্ধা ও রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে ক্ষমা চেয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!