- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি বহাল রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ, এসএলপি দায়ের চাকরিপ্রার্থীদের
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৩২ হাজার চাকরি বহাল রাখার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন একাংশ চাকরিপ্রার্থী। কলকাতা হাই কোর্ট-এর ডিভিশন বেঞ্চ সম্প্রতি এই ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। ওই রায়কে ‘মানবিকতার ভিত্তিতে দেওয়া বেআইনি সিদ্ধান্ত’ বলে দাবি করে সর্বোচ্চ আদালতে স্পেশাল লিভ পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করেছেন মামলাকারীরা। আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
২০১৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের টেট পরীক্ষায় প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। ২০১৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। টেট উত্তীর্ণদের মধ্যে থেকে ৪২,৯৪৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, এই নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৩২,০০০ জন ছিলেন ‘অপ্রশিক্ষিত’ এবং যথাযথ ইন্টারভিউ ও অ্যাপটিটিউড টেস্ট ছাড়াই তাঁদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগও সামনে আসে।
এই প্রেক্ষিতে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন প্যানেল থেকে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছিল, তাঁদেরও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। ইন্টারভিউ ও অ্যাপটিটিউড টেস্টের মাধ্যমে পুনরায় নিয়োগের নির্দেশ ছিল সেই রায়ে।
সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও কর্মরত শিক্ষকরা ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়। তবে প্রার্থীদের চাকরি বজায় রেখেই নতুন করে ইন্টারভিউ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তিন মাসের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়।
পরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে আবার হাই কোর্টে ফিরে আসে। গত ২৮ এপ্রিল থেকে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে টানা ছ’মাস শুনানি চলে। ১২ নভেম্বর রায়দান স্থগিত রাখার পর ৩ ডিসেম্বর ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে দেয়।
ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকে এবং তাঁরা স্বপদে বহাল থাকেন। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধেই এবার সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, মানবিকতার ভিত্তিতে চাকরি বহাল রাখা আইনের পরিপন্থী। ফলে প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি ইস্যুতে আইনি লড়াই এখন সর্বোচ্চ আদালতে গড়াচ্ছে।
❤ Support Us








