Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ২, ২০২৬

“বেঁচে থাকলে বিজেপি-কে সরাবই, আমাকে আটকানো যাবে না”: ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে হুঙ্কার মমতার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
“বেঁচে থাকলে বিজেপি-কে সরাবই, আমাকে আটকানো যাবে না”: ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে হুঙ্কার মমতার

রাজ্যে রাজনৈতিক ডামাডোল এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মাঝেই কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসলেন তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসা ও জীবন-জীবিকা রক্ষার দাবিতে আয়োজিত এই ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। সাফ জানান, “জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে যায়েঙ্গে (যদি বেঁচে থাকি বিজেপি-কে সরাবই)।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, মানুষের সুদিনে না হলেও, দুর্দিনে তিনি সবসময় পাশে আছেন।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘চক্রান্ত’ ও বুলডোজার রাজনীতির অভিযোগ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, দিল্লি থেকে কলকাঠি নেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ফেলে দেওয়ার ‘চক্রান্ত’ করছে বিজেপি সরকার। ইডি এবং সিবিআই-এর ভয় দেখিয়ে তৃণমূলের বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের জোরপূর্বক বিজেপি-কে সমর্থন করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের লোকেদের গ্রেফতার করবেন না, আপনাদের অত্যাচারে মানুষ আত্মহত্যা করছে। পশ্চিমবঙ্গে এখন ‘বুলডোজ়ার’ রাজনীতি চলছে।” এই বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “দেখুন কার উপর আপনি দায়িত্ব দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে কী হচ্ছে, এ সব কিছু তো আপনাকে দেখতে হবে।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা ও হাসপাতালের ‘অসহযোগিতা’

গত শনিবার সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আক্রান্ত হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, “ওটা গলির মধ্যে ছিল। হেলমেট না-দিলে পাথরটা ওর মাথায় লাগত।” এর পরেই বেসরকারি হাসপাতালের ‘অসহযোগিতা’ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানান, অভিষেককে যখন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সিইও-র অনুমতি নেওয়ার অজুহাত দেখানো হয়। পুলিশ নার্সিং হোমকে হুমকি দিচ্ছিল। পরে ট্রমা কেয়ারে ভর্তির পর হাসপাতালের সিইও এবং সেখানে উপস্থিত শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সামনে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, তাঁরা আর চাপ নিতে পারছেন না, তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে।

‘নতুন তৃণমূল’ বনাম ‘পুরনো তৃণমূল’ দ্বন্দ্ব

তৃণমূলের অন্দরে চলা সাম্প্রতিক ডামাডোল ও নতুন দল গড়ার জল্পনা নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। পুলিশ গিয়ে তৃণমূল বিধায়কদের বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছে এবং তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়ার পরামর্শ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর জবাবে মমতার প্রশ্ন, “কারা নতুন তৃণমূল তৈরি করবে? যাঁরা প্রথম থেকে দলের সঙ্গে আছেন তাঁরা নাকি যাঁরা দলের প্রতীকী জিতেছে তাঁরা?”

পুলিশের ভূমিকা ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে পূর্বনির্ধারিত ধর্নার অনুমতি না মেলায় পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। ওয়াই চ্যানেলে হ্যান্ড মাইক নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “এ ভাবে আমাকে আটকাতে পারবে না। যেখানে পারব বসে পড়ব।” তবে পুলিশের ওপর সরাসরি দোষ না চাপিয়ে তিনি বলেন, “ওরা চেয়ারের কথা শোনে। চেয়ার যা বলে তা করে।” পাশাপাশি ধর্নাস্থলে কর্মীদের আসতে বাধা দিলে লালবাজার, নবান্ন এবং সমস্ত থানা ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এছাড়া, রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ভবিষ্যতে অন্য কাউকে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান।

ধর্নার ঘটনাক্রম ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

  • মঙ্গলবারের কর্মসূচি: দুপুর ২টো নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে রেড রোডে বিআর অম্বেডকরের মূর্তিতে এবং পরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে মালা দিয়ে শপথ নেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, অসীমা পাত্র প্রমুখ।
  • অনুমতি নিয়ে জট: পুলিশ রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের বদলে ওয়াই চ্যানেলে দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ধর্নার অনুমতি দেয়। সোমবার রাতে ইমেলের মাধ্যমে এই নতুন আবেদনের কথা জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মঙ্গলবার বেলা বাড়তেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম, অশোক দেবের মতো প্রবীণ নেতারা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ওয়াই চ্যানেলে হাজির হন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চত্বর।
  • তৃণমূলের অস্বস্তি ও অতীত প্রসঙ্গ: উল্লেখ্য, গত রবিবার কালীঘাটের বৈঠকে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই অনুপস্থিত ছিলেন, যা দলের ফাটলকে স্পষ্ট করে। এর সাথে সই জাল-কাণ্ড নিয়ে বিড়ম্বনা বাড়ায় মঙ্গলবার সকালেই মমতার বাড়িতে বৈঠকে বসেছিলেন কুণাল, মদন ও দোলা সেন। এদিকে রাজনৈতিক মহলের মতে, অতীতে তৃণমূল জমানাতেও তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি-কে বহু কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতি না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।

সমস্ত বাধা ও আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ— “মারলে মারো। কিন্তু যত দিন কণ্ঠ রয়েছে, তত দিন মাথা নত করাতে পারবে না।” যাদের ঘর ও দোকান ভাঙা হয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণের দাবিও জানান তিনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!