Advertisement
  • দে । শ
  • আগস্ট ৬, ২০২৬

প্রয়াগরাজে রাহুলের ‘ছাত্রের আওয়াজ’ কর্মসূচিতে বাধা! ‘এভাবে কণ্ঠস্বর দমাতে পারবে না সরকার’— বিজেপিকে নিশানা বিরোধী দলনেতার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রয়াগরাজে রাহুলের ‘ছাত্রের আওয়াজ’ কর্মসূচিতে বাধা! ‘এভাবে কণ্ঠস্বর দমাতে পারবে না সরকার’— বিজেপিকে নিশানা বিরোধী দলনেতার

প্রয়াগরাজে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি করার আগেই বাধার মুখে পড়লেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ৮ গস্ট কেপি গ্রাউন্ডে নির্ধারিত ওই অনুষ্ঠানের জন্য দেওয়া অনুমতি শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করে নিয়েছে কায়স্থ পাঠশালা ট্রাস্ট। ট্রাস্টের দাবিএলাহাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ওই মাঠ খেলাধুলাশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশিটানা বৃষ্টিতে মাঠে জল জমে থাকায় জনসমাবেশের জন্য সেটি নিরাপদ নয় বলেও জানানো হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। অন্যদিকেবিজেপির পাল্টা দাবিসংসদ অধিবেশন চলাকালীন রাহুল ইচ্ছাকৃত ভাবে সংসদ এড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছেন।

অনুমতি বাতিলের পর বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে রাহুল সরাসরি কেন্দ্র সরকারকে নিশানা করেন। তিনি লেখেনএলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ফি বৃদ্ধিআসনসংখ্যা হ্রাস-সহ একাধিক ইস্যুতে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করছেন। অথচ তাঁদের দাবি শোনার বদলে প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করছে। রাহুলের অভিযোগ, ‘যুবসমাজের কণ্ঠরোধ করাই মোদি সরকারের নীতি। প্রশ্ন করলে লাঠিচার্জপ্রতিবাদ করলে মামলাআর কণ্ঠস্বর তুললে পেলেট গানের মুখোমুখি হতে হয়।’ তিনি আরও দাবি করেনছাত্রদের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসন তাঁর কর্মসূচি বানচাল করার চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, ‘আমি যেদিন থেকে প্রয়াগরাজে গিয়ে ছাত্রদের কথা শোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিসেদিন থেকেই প্রশাসন আমার কর্মসূচি আটকাতে সব রকম চেষ্টা করছে। এ থেকে স্পষ্ট ওরা পড়ুয়াদের আওয়াজকেও ভয় পাচ্ছে। আমি ছাত্রদের পাশে আছি। সরকার যতই চেষ্টা করুকতাঁদের বক্তব্য আমি তুলে ধরবই।’

অন্যদিকে, ‘কায়স্থ পাঠশালা ট্রাস্ট’-এর কার্যনির্বাহী সভাপতি জিতেন্দ্র নাথ চৌধুরী জানান২০২৫ সালের ১৪ গস্ট এলাহাবাদ হাই কোর্ট একটি নির্দেশে জানিয়েছিলকেপি কলেজের মাঠ শুধুমাত্র খেলাধুলা ও শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে। সে নির্দেশের ভিত্তিতেই অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এখন বৃষ্টির জেরে মাঠে জল জমে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সেখানে জনসমাবেশ করলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি আরও জানানকংগ্রেসকে দেওয়া আগের অনুমতিও জেলা শাসকের অনুমোদন সাপেক্ষ ছিল।

৮ গস্টের কর্মসূচিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগভর্তি-সংক্রান্ত সমস্যা এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা ছিল লোকসভার বিরোধী দলনেতার। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বুধবারই প্রয়াগরাজে পৌঁছেছিলেন উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই। অনুমতি বাতিলের পরেও তিনি দাবি করেননির্ধারিত দিনেই প্রয়াগরাজে আসবেন রাহুল, ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করবেন। সাংবাদিক বৈঠকে অজয় রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করার আবেদন জানান। তাঁর অভিযোগবিজেপি সরকার রাজনৈতিক কারণেই কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তা আর ছাত্রদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগকে ভয় পেয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অজয়ের আরও অভিযোগএর আগেও কোটা এবং দেরাদুনে রাহুল গাঁধীর কর্মসূচি একই ধরনের পরিস্থিতিতে বাতিল করা হয়েছিল।

এদিকে, রাহুল গান্ধীর অভিযোগের পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপিও। দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ অভিযোগ করেনসংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীন রাহুল গাঁধী ইচ্ছাকৃত ভাবে সংসদে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না। পরিবর্তে ছাত্রদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। এদিন, সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চুঘ বলেন, ‘সংসদ চলাকালীন দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে এড়িয়ে তুচ্ছ রাজনীতি করছেন বিরোধী দলনেতা। সংসদে এসে আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিবর্তে বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি করছেন। এতে স্পষ্টতিনি মানসিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছেন।’ তাঁর আরও দাবিসংসদে বিতর্কে অংশ নিতে কংগ্রেস আগ্রহী নয়কারণ তাদের কাছে কোনো যুক্তি বা ইস্যু নেই। আলোচনায় বসলেই কংগ্রেসের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচার’ প্রকাশ্যে চলে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি।

তরুণ চুঘ আরও অভিযোগ করেনছাত্রদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে কংগ্রেস। তাঁর অভিযোগ, ‘দেশ দেখছেছাত্রদের নামে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য কংগ্রেস কত রকম কৌশল নিচ্ছে। এমনকি বাসে করে গিয়ে আন্দোলন হাইজ্যাক করারও চেষ্টা করছে। অথচ ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এটাই কংগ্রেসের দ্বিচারিতা।’ বিজেপির অভিযোগছাত্রদের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের চেয়ে আন্দোলনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেই বেশি আগ্রহী কংগ্রেস।

উল্লেখ্যসাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে সরব হয়েছে কংগ্রেস। সেই ইস্যুতেই ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন রাহুল গান্ধী। প্রয়াগরাজের কর্মসূচিও সেই প্রচেষ্টারই অংশ বলে কংগ্রেসের দাবি। তবে সে কর্মসূচি ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি যেমন উত্তপ্ত হয়েছেতেমনই সংসদের বাইরেও কংগ্রেস-বিজেপি রাজনৈতিক সংঘাত আরও এক দফা তীব্র হয়ে উঠেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!