- দে । শ
- জুন ১২, ২০২৬
দুর্নীতি, আদর্শহীনতার গ্রাসে তৃণমূল, ক্ষোভ প্রকাশ বিদ্রোহি সাংসদ শর্মিলার
‘মানুষের জন্য কাজ করতে’ এক কথায় মোটা মাইনের চাকরি ছেড়েছেন। ‘মমতা ব্যানার্জিকে দেখে’ ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব লুফে নিয়েছেন। কিন্তু দলের ভিতরে ‘লাগামহীন দুর্নীতি, আদর্শহীনতা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে তাঁর দেওয়ালে পিঠ ঠেকা’র দশা হয়েছিল বলে জানালেন পূর্ব বর্ধমান লোকসভার তৃণমূল সাংসদ ডাঃ শর্মিলা সরকার। ফোনে নিজের ‘বদলে যাওয়া অবস্থানের’ ব্যাখ্যা এভাবেই ব্যক্ত করলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ শর্মিলা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাড়িতে বৈঠকে যোগ দেওয়া শর্মিলার কথায়, ‘যে দল বা দলনেত্রীকে দেখে রাজনীতির উঠোনে পা রাখি, সেই দলের লোকজন এত দুর্নীতি, আদর্শহীনতার পাঁকে ডুবে রয়েছে দেখে নিজেকে অপরাধী মনে হত।’ যোগ করেন, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের জন্য সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ করতে বারবার বাধা পেয়েছি। মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছি।’ ‘নিরুপায় হয়েই’ এনডিএ-র সমর্থনে গড়া তৃণমূল সাংসদদের নয়া ব্লকের শরিক হয়েছেন শর্মিলা। লোকসভার স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে স্বাক্ষরকারী তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে শর্মিলাও রয়েছেন।
২০২৪-র লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করে রাজনীতিতে আনকোরা পেশায় মনোরোগের চিকিৎসক কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের বাসিন্দা শর্মিলা সরকারকে। ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপকের চাকরি এককথায় ছেড়ে মানুষের জন্য কাজ করতে এসে ‘দলের মধ্যেই বারেবারেই অসম্মানিত হয়েছেন’ বলে জানালেন। দলের একটা প্রভাবশালী অংশ তাঁকে ‘কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছে, কাজ করতে দেয়নি’ বলেও অভিযোগ করেন শর্মিলা। এইসমস্ত বিষয় সবিস্তারে ‘দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে জানিয়েও কোনো ফল মেলেনি’ বলে হতাশা প্রকাশ করেন সাংসদ। বলেন, ‘অবাক হয়ে গিয়েছি, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি, আমার চিঠি তাদের কাছেই পৌঁছে গিয়েছে।’ এত এত ক্ষোভ অসম্মান আঁচলের তলায় চেপে রেখেই এবারের বিধানসভা ভোটের প্রচারে গোটা লোকসভা এলাকা চষে বেড়িয়েছেন শর্মিলা।
পালাবদলের পর ঘটনা পরম্পরায় হতবাক শর্মিলা। রোজই দেখছেন, ক্ষুব্ধ জনতা কোথাও তৃণমূলের নেতাদের উদ্দেশে ডিম ছুঁড়ছে, কোথাও চোর চোর বলে ধাওয়া করছে, কোথাও নেতাদের কোমরে দড়ি পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ, কোথাও নেতাদের ঘিরে গালিগালাজ করছে, জুতো-চটি ছুড়ছে। শর্মিলার মতে, ‘কতটা ক্ষোভ-দুঃখ জমে থাকলে মানুষের আচরণের এমন বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।’ বললেন, ‘দুর্নীতির কথা জানতাম, কিন্তু দলের নেতারা যে এতটা দুর্নীতিগ্রস্ত বুঝতে পারিনি।’
‘অসম্মান অপমান নিয়ে আর থাকতে না পেরেই’ দলের বিদ্রোহী ব্লকের শরিক হয়েছেন বলে জানালেন শর্মিলা। মনে করিয়ে দিলেন, ‘সাংসদ হওয়ার পর কোথাও এতটুকু বেনিয়ম করেছি, কেউ বলতে পারবেন না। হয়ত অনেকে বলবেন তৃণমূল টিকিট দিয়েছে বলেই সাংসদ হয়েছি। কিন্তু এটা ভুললে চলবে না যে, আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।’ তবে এতকিছুর পর তাঁর লোকসভা এলাকার বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেছেন শর্মিলা। জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বর্ধমান পূর্ব লোকসভার জনগণেশের পাশে আছি। তাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাব।’ প্রসঙ্গত শর্মিলা সরকার দলের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখালেও বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেই রয়েছেন।
❤ Support Us






