- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ রেখার
দীর্ঘ ২৭ বছর পর দিল্লির ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। আম-আদমি পার্টিকে হারিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ট সরকার বানাতে চলেছে গেরুয়া শিবির। মুখ্যমন্ত্রী কে হবে ? প্রবল চাপানোতরের পর, গতকাল বিজেপির তরফে ঘোষণা করা হয় দিল্লির চাঁদনি চক এলাকার শালিমার বাগ কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের জন্য জিতে আসা রেখা গুপ্ত হবেন রাজধানীর নতুন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ চতুর্থবারের জন্য মহিলা মুখ্যমন্ত্রী পেলেন চলেছেন দিল্লিবাসী। ঘটনাচক্রে ১৯৯৮ সালে ক্ষমতা হারানোর সময়ও বিজেপির তরফে মুখ্যমন্ত্রীর পদে ছিলেন মহিলা নেত্রী, সুষমা স্বরাজ। তারপর কংগ্রেসের শীলা দিক্ষিত ও আপ নেত্রী আতিশী মার্লেনার মুখ্যমন্ত্রী হন।
দিল্লির রামলীলা ময়দানে চলছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনার কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নিলেন রেখা গুপ্ত। তাঁর পাশাপাশি ৬ জন বিজেপি বিধায়ক ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছেন। এ বারের বিধানসভা ভোটে নয়াদিল্লি আসনে আম আদমি পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে হারানো জাঠ নেতা প্রবেশ বর্মা এবং জনকপুরীর বিধায়ক আশিস সুদ মন্ত্রী হতে চলেছেন। এছাড়াও পঙ্কজ কুমার, তিন বারের বিধায়ক বিজেন্দ্র গুপ্ত, প্রভাবশালী শিখ নেতা, মনজিন্দর সিং সিরসা, রবীন্দ্র ইন্দ্রজ সিং, বিতর্কিত নেতা কপিল মিশ্র দায়িত্ব পেলেন। বীজেন্দ্র গুপ্তকে আগামী বিধানসভার সম্ভাব্য স্পিকার হিসাবে দায়িত্বদেওয়া হতে পারে। রামলীলা ময়দানে মেগা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতারা উপস্থিত । এছাড়াও কেন্দ্রের সহযোগী দলের অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নায়ডু ও মহারাষ্ট্রের গৃহমন্ত্রী একনাথ শিন্দে উপস্থিত রয়েছেন। বিহারের নীতীশ কুমারকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে বিজেপি। প্রায় ৩০ হাজার আমজনতার বিপুল সমাগম হতে পারে আজ। রাজনীতিবিদ, অভিনেতা, সঙ্গীত শিল্পী, ব্যবসায়ী ও ধর্মগুরুদের উজ্জ্বল উপস্থিতিতে রামলীলা ময়দান সেজে উঠেছে।
দিল্লি বিধানসভার ৭০ সিটের মধ্যে ৪৮ সিটে জয় পেয়ে আগামী ৫ বছরে গেরুয়া শিবির অপ্রতিরোধ্য বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে কোন কারণে রেখা গুপ্তাকে বেছে নেওয়া হল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ? বিগত বেশ কয়েকটি বিধানসভা ভোটে দেখা গিয়েছে, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ছাড়া বাকি রাজ্যে তুলনামূলক ‘অচেনা মুখকে’ মুখ্যমন্ত্রী করার দিকেই ঝুঁকেছে বিজেপি। রাজস্থানের ক্ষেত্রেও এমনটা করা হয়েছিল, সেখানেও প্রথমবারের বিধায়ককে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল। অন্যদিকে বিজেপি দলের সূত্রে জানা যাচ্ছে, মহিলা বিধায়ক হিসাবে রেখা মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী পদে অগ্রাধিকার পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। তিনি দলের মহিলা মুখ। এছাড়াও তিনি প্রভাবশালী বণিক সম্প্রদায়ের সদস্য, একাধিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে। প্রথম বার বিধায়ক হলেও দিল্লির পুরভোটে টানা ৩ বার জিতেছেন রেখা। শেষ বার ২০২২-এর ডিসেম্বরে। কিন্তু তার পরেই মেয়র নির্বাচন ঘিরে বেধেছিল গন্ডগোল। এ বারের বিধানসভা ভোটে তিন বারের আপ বিধায়ক বন্দনা কুমারীকে সাড়ে ২৯ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়েছেন রেখা। তাই প্রবেশ বর্মা, সতীশ উপাধ্যায়, বিজেন্দর গুপ্তের মতো নেতারা পরিষদীয় দলের বৈঠকে রেখা গুপ্তার নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল এই তিনজনের মধ্যে একজনকে মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে বলে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী দিনে ক্ষমতা ধরে রাখতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বাছাই ও ক্যাবিনেট মন্ত্রী নির্বাচনে সুচারু সমীকরণ মাথায় রাখা হইয়েছে।
❤ Support Us





