- দিন-দুনিয়া দে । শ
- জুন ১, ২০২৬
মণিপুরে অপহৃত ২০ জন গ্রামবাসী, মুক্তির আর্জি দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর
প্রায় ৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। এখনো নিখোঁজ ৬ জন নাগা গ্রামবাসী। অন্যদিকে, জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন আরও ১৪ জন কুকি নাগরিক। অশান্ত মণিপুরে দীর্ঘস্থায়ী জিম্মি-সঙ্কট ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। এ অবস্থায় ‘অপহৃত’ ২০ জন অসামরিক নাগরিকের দ্রুত ও নিরাপদ মুক্তির আবেদন জানালেন উত্তর-পূর্ব ভারতের দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখ্যমন্ত্রী— নাগাল্যান্ডের নেফিউ রিয়ো এবং মেঘালয়ের কনরাড কে সাংমা।
গত ১৩ মে মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় এক রক্তক্ষয়ী হামলায় ৩ জন ‘থাডৌ গির্জা’ নেতা নিহত হন। ঘটনার পর থেকেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযোগ, প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে একাধিক গ্রামবাসীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথম দিকে মোট ২৮ জন নাগা এবং ২৮ জন কুকিকে জিম্মি করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পরে ধাপে ধাপে ১৪ জন নাগা এবং ১৪ জন কুকিকে মুক্তি দেওয়া হলেও এখনো ২০ জন বন্দিদশায় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি)-কে লেখা এক চিঠিতে নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিয়ো জানিয়েছেন, অপহৃত ৬ জন নাগার মুক্তির প্রশ্নে তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। রিয়োর বলেছেন, ‘নাগা সমাজের গভীর উদ্বেগের বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে এনেছি। ব্যক্তিগত ভাবে হস্তক্ষেপ করে অপহৃতদের সন্ধান, মুক্তি এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছি।’ রিয়োর দাবি, অমিত শাহ তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অপহৃতদের খুঁজে বের করা, অপহরণকারীদের চিহ্নিত করা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শুধু অমিত শাহ নন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) পরিচালকের সঙ্গেও পৃথক ভাবে কথা বলেছেন রিয়ো। বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং জরুরিতার কথা উল্লেখ করে তিনি দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে আশ্বাস মিলেছে যে অপহৃতদের উদ্ধারে সক্রিয় তৎপরতা চলছে। তবে রিয়োর আবেদন কেবল কেন্দ্রের প্রতিই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইউএনসি-র কাছেও তিনি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে নাগা স্বেচ্ছাসেবকেরা তাঁদের হেফাজতে থাকা ১৪ জন কুকি নাগরিককে নিরাপদ ও নিঃশর্ত ভাবে মুক্তি দেন। চিঠিতে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সহমর্মিতা, ক্ষমাশীলতা এবং পুনর্মিলনের শিক্ষা, পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষা ও মানবিক মর্যাদা বজায় রাখার নাগা ঐতিহ্যের কথাও।
একই সুর শোনা গিয়েছে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমার গলাতেও। তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে বর্ণনা করেছেন। ইউএনসি এবং কুকি ইনপি মণিপুরের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে সাংমা বলেছেন, ‘যে সব অসামরিক মানুষের কোনো সংঘাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই, তাঁদের অপহরণ সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা আর বিভাজন বাড়িয়ে তোলে। রাজ্যের মানুষ আজ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।’ সাংমা সমস্ত জিম্মিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, পর্যাপ্ত খাদ্য ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সহিংসতা নয়, সংলাপই হতে পারে সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।
এদিকে, জিম্মি-কাণ্ডে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে নাগা সমাজের মধ্যেও। অল নাগা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, মণিপুর (এএনএসএএম) রাজ্য সরকারকে ৪ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। সংগঠনের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারকে ৬ জন অপহৃতর অবস্থান ও শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে, তাঁদের মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এএনএসএএম হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক পদক্ষেপ না হলে সম্মিলিত ভাবে বর্তমান রাজ্য সরকারকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমনকি সরকারকে সমর্থনকারী নাগা বিধায়কদেরও সমর্থন প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হতে পারে। অন্যদিকে, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংহ জানিয়েছেন, অপহরণ-কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি জিম্মিদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি ও চিরুনি অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
❤ Support Us





