Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ১৬, ২০২৬

জোড়াফুল প্রতীকের আসল দাবিদার কে ? বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই উঠতে পারে প্রশ্ন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জোড়াফুল প্রতীকের আসল দাবিদার কে ? বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই উঠতে পারে প্রশ্ন

সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে ২০ জুলাই, আর তার এক দিন পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের বার্ষিক শহিদ দিবস। এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম মুখ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই তাঁরা স্পিকারের সামনে নিজেদের ‘আসল’ এবং ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।

দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ বলেন, “২০ জুলাই সংসদ চালু হবে। তখন তৃণমূল কংগ্রেসের নামে একটি দল আসবে। সেই সময়ে আমাদের পক্ষ থেকেও বলা হবে, আমরাও তৃণমূল কংগ্রেস। সংখ্যা গোনা হোক।” তাঁর মতে, এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছতে পারে। এমনকি মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ বাজেয়াপ্ত বা স্থগিতও থাকতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিদ্রোহী সাংসদরা এখনই নিজেদের তৃণমূলের প্রকৃত উত্তরাধিকারী দাবি করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছেন না। বর্তমানে তাঁরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গেই যুক্ত থাকবেন। তাঁর মতে, এর পিছনে রয়েছে কিছু প্রক্রিয়াগত ও আইনি কারণ।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, অন্য একটি রাজনৈতিক দলে মিশে যাওয়ার কথা স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়ার পরেও কি আবার নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করা সম্ভব?

এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আদালতে গেলে কী রায় হবে বা প্রতীক বাজেয়াপ্ত হবে কি না, তা আগাম বলা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্ন-সহ একাধিক আইনি বিষয় বিচার করেই আদালত সিদ্ধান্ত নেয়।

অন্যদিকে, কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বিষয়টির সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি সদস্য যদি অন্য কোনও দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন কার্যকর হয় না। সেই ক্ষেত্রে তাঁরা সংসদে স্বাধীনভাবে অথবা সংশ্লিষ্ট নতুন দলের পরিচয়ে পরিচিত হয়ে বসতে পারেন।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচনী প্রতীক বা দলের তহবিলের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এ ধরনের বিরোধ সংসদের আওতায় নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের অধীন। করগুপ্ত জানান, ১৯৬৮ সালের ‘ইলেকশন সিম্বলস (রিজার্ভেশন অ্যান্ড অ্যালটমেন্ট) অর্ডার’-এর অধীনে এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।

তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একটি রাজনৈতিক দলের মূলত দু’টি অংশ থাকে — প্রথমত সংসদীয় বা পরিষদীয় অংশ, অর্থাৎ সাংসদ ও বিধায়কেরা; দ্বিতীয়ত সাংগঠনিক অংশ, অর্থাৎ দলের সংগঠন। যদি এই দুই অংশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ কোনও প্রতীক বা তহবিলের উপর নিজেদের অধিকার দাবি করে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয়, তবে নির্বাচন কমিশন সেই দাবি খতিয়ে দেখতে পারে।

যাচাই প্রক্রিয়া চলাকালীন কী হবে, সেই প্রশ্নে করগুপ্ত বলেন, কমিশন চাইলে সাময়িকভাবে দুই পক্ষকে আলাদা প্রতীক বরাদ্দ করতে পারে। পরে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই যদি বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেন, তবে তা শুধু রাজনৈতিক বিতর্কই নয়, ভবিষ্যতে বড় আইনি লড়াইয়েরও সূচনা করতে পারে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক ‘জোড়াফুল’-এর ভবিষ্যৎ।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!