- দে । শ
- জুন ১৭, ২০২৬
‘সাংসদ ভাঙাতে কয়েক কোটি টাকা, প্রাইভেট জেটের টোপ’— বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ শিবসেনার
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) গোষ্ঠীর রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তাঁর অভিযোগ, উদ্ধব শিবিরের সাংসদদের দলে টানতে কোটি কোটি টাকার প্রলোভন দিচ্ছে বিজেপি। শুধু অর্থই নয়, প্রাইভেট জেট ব্যবহারের মতো বিলাসবহুল সুযোগও দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে সঞ্জয় রাউত অভিযোগ করেছেন, মহারাষ্ট্রের সাংসদদের ভাঙাতে প্রত্যেককে ১৫ কোটি টাকা করে অগ্রিম দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তিনি এ ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি তাঁর দাবি, সাংসদদের প্রাইভেট জেটের সুবিধাও দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। তবে এত কিছুর পরও উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন রাউত। তাঁর মতে, দলের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো রাজনৈতিক শক্তি ও সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদদের পৃথক দল গঠনের সম্ভাবনাকেও তিনি গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, সেই ধরনের উদ্যোগ সফল হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন তারা পাবে না।
এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘উদ্ধব ঠাকরে প্রত্যেক সাংসদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং সবসময় তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপি অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তাতে সফল হবে না। আমরা বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শে বিশ্বাসী এবং সেই আদর্শের প্রতিই অনুগত।’ তবে দলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি ও ভাঙনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি। বুধবার সকালে রাউত আরও অভিযোগ করেন, তাঁদের দলের দুই সাংসদকে নান্দেড় বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ভাড়া করা বিমান পাঠানো হয়েছিল। বিদ্রোহী সাংসদদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘যাঁদের একসময় রিকশায় চড়ারও সামর্থ্য ছিল না, ঠাকরে নামই তাঁদের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে।’
এদিকে, সোমবার দিল্লিতে উদ্ধব শিবিরের সাংসদ সঞ্জয় দেশমুখের সঙ্গে শিন্দে শিবিরের নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবের বৈঠক ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তার আগেই রবিবার মুম্বইয়ে উদ্ধব ঠাকরের বাসভবন ‘মাতশ্রী’-তে ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সঞ্জয় দেশমুখ-সহ একাধিক সাংসদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। সূত্রের খবর, উদ্ধব শিবিরের অন্তত ছয়জন সাংসদ বর্তমানে একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল, ওমরাজে নিম্বলকর, ভৌসাহেব ওয়াকচৌর এবং সঞ্জয় যাদব।
জানা গিয়েছে, ওই সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে একটি চিঠি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। প্রথমে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পরে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দে ও তাঁর পুত্র শ্রীকান্ত শিন্দের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ধব শিবিরও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয় হয়েছে। দিল্লিতে সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং সূত্রের দাবি, যেসব সাংসদ ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাপ্রবাহ নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে উদ্ধব শিবিরের সাংসদদের অবস্থান এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
❤ Support Us






