- দে । শ
- মে ২৮, ২০২৬
মমতাকে চিঠি দিয়ে মুখপাত্রের পদ ছেড়ে দিলেন চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন
আরজি কর-কাণ্ড, চাকরি দুর্নীতি এবং দলীয় ‘অনৈতিক কাজ’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চিকিৎসক-নেতা শান্তনু সেন । প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়ে তিনি নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। যদিও তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয় ।
দীর্ঘদিন ধরেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে কর্তব্যরত চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর হাসপাতালের দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন শান্তনু। সেই সময় দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল এবং মুখপাত্রের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি সেই পদ ফিরে পেলেও এবার বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর স্বেচ্ছায় পদ ছাড়লেন।
গত কয়েক দিনে একাধিক ঘটনায় দলের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিলেন শান্তনু। কিছুদিন আগে তিনি সমাজমাধ্যমে নতুন ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও ধন্যবাদ জানান। এরপর বুধবার আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে মুখ খুলে তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে শুভেন্দু সরকারের পাশে থেকে সবরকম সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার ইস্তফার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে শান্তনু বলেন, “দলের মুখপাত্র হিসেবে অনেক অনৈতিক কাজকে সমর্থন করতে হয়েছে। মন থেকে সায় না থাকলেও সেগুলো করতে বাধ্য হয়েছিলাম। বিধানসভা ভোটের ফল থেকেই স্পষ্ট, আরজি কর-কাণ্ড, চাকরি চুরি এবং দুর্নীতি মানুষ মেনে নেয়নি। মানুষের সেই রায়কে সম্মান জানানো উচিত। তাই আমি পদ ছাড়লাম।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে এক জন অনুগত সৈনিক হিসেবে কাজ করেছি। দল আমাকে বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়েছে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
তবে একইসঙ্গে তিনি আরও লেখেন, “বিভিন্ন কঠিন সময়ে নিজের বিবেকের বিরুদ্ধে গিয়ে বহু বিতর্কিত বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে দলের হয়ে লড়াই করেছি। সাধারণ মানুষের বিরূপ মন্তব্যও শুনতে হয়েছে। কিন্তু এখন মানুষ যখন আরজি কর-কাণ্ড, চাকরি বিক্রি-সহ নানা দুর্নীতির কারণে আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন আর মুখপাত্র হিসেবে এই সব বিষয়কে সমর্থন করার মানসিকতা আমার নেই। তাই মানুষের রায় মেনে আমি এই পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাই।”
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৮টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসেছে। অন্যদিকে তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থেকেছে। এই ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভ, বিদ্রোহ এবং পদত্যাগের ঘটনা বাড়ছে। একের পর এক নেতা প্রকাশ্যে দলের সমালোচনা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং সংগঠনের ভিতরে অসন্তোষই মানুষের এই রায়ের মূল কারণ।
এর আগেই তৃণমূলের আর এক মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী পুরসভার অ্যাকাউন্ট কমিটির সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন। কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষও বরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছেন। এবার সরাসরি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে দেওয়ায় তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা আরও প্রকট হল বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
শান্তনুর ইস্তফা প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ দেবও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।
বিশ্বজিৎ দেবের কথায়, “খুব তাড়াতাড়ি এই দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। এত বড় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে, আর মমতা বা অভিষেক কিছু জানতেন না—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আইপ্যাককে ঘিরেও দলে তীব্র ক্ষোভ ছিল। সব সিদ্ধান্ত তাদের মাধ্যমে নিতে হত। কর্মীদের বঞ্চনার কথা বলতে গেলেও সুযোগ দেওয়া হয়নি। গত তিন বছর ধরে আমি কার্যত দল থেকে বিচ্ছিন্ন। সর্বনাশের মূল ওই আইপ্যাক। কর্মীদের কাছ থেকেও টাকা তোলা হত।”
❤ Support Us





