- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ২, ২০২৬
ফলতায় ফের উত্তেজনা, পুনর্নির্বাচনের দাবিতে পথ অবরোধ । রিপোর্ট তলব নির্বাচন কমিশনের
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্র ফের অশান্ত হয়ে উঠল। শনিবার সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। যদিও ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন চলছে, সেই তালিকায় ফলতার নাম না থাকায় ক্ষোভ বাড়ে গ্রামবাসীদের একাংশের মধ্যে। তাঁদের দাবি, ফলতার একাধিক বুথেও পুনর্নির্বাচন করতে হবে।
অভিযোগ উঠেছে, বিজেপিতে ভোট দেওয়ার কারণে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, জাহাঙ্গিরের ঘনিষ্ঠ পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল সর্দারের নেতৃত্বেই এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে শনিবার ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ইসরাফিল সর্দারকে গ্রেফতার করতে হবে এবং ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। কেউ কেউ জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারির দাবিও তুলেছেন।
শুক্রবার থেকেই ফলতার হাশিমনগর এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, অনেককে ভোট দিতেই দেওয়া হয়নি, প্রতিবাদ করায় মারধর করা হয়েছে। শুক্রবারও জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা ঘটনাস্থলে যান। মোতায়েন করা হয় ফলতা থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবুও শনিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীরা রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই ফলতা কেন্দ্র উত্তপ্ত ছিল। ভোটের দিনও একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ১৭০ ও ১৮৯ নম্বর বুথে ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানোর অভিযোগ সামনে আসে। শুধু এই দুটি বুথ নয়, আরও বেশ কয়েকটি বুথ থেকে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিরোধীরা মোট ৩২টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায়।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ফলতার অশান্তি এবং বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে রিপোর্ট তলব করেছে। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী পর্যবেক্ষক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দিল্লিতে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। সেখানে ফলতার প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
❤ Support Us







