Advertisement
  • দে । শ
  • মে ২০, ২০২৬

দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বিধাননগর পুর-কাউন্সিলার দেবরাজকে পুলিশি জেরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বিধাননগর পুর-কাউন্সিলার দেবরাজকে পুলিশি জেরা

বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর তথা এমআইসি দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘ কয়েকদিন নিরুদ্দেশ থাকার পর অবশেষে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হল তাঁকে। যদিও সরকারি ভাবে এখনও আটক বা গ্রেফতারের কথা ঘোষণা করেনি পুলিশ, তবু প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, যেদিন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান, ঠিক সেদিনই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন দেবরাজ চক্রবর্তী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ নিছক কাকতালীয় নয়; বরং তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় চাপের ইঙ্গিত বহন করছে।

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত বেপাত্তা ছিলেন দেবরাজ। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন ছড়ায়, আইনি জটিলতা এড়াতেই তিনি আত্মগোপন করেছেন। একাধিক মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার তাঁর সাময়িক আশ্রয়ে হানা দেয় পুলিশ। এরপর তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বলে সূত্রের দাবি।

তৃণমূলের অন্দরে দেবরাজ চক্রবর্তী শুধুমাত্র একজন কাউন্সিলর নন, বরং উত্তর ২৪ পরগনা ও যুব তৃণমূলের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন নেতা হিসেবেই তাঁর পরিচিতি ছিল। কামারহাটি থেকে বিধাননগর পর্যন্ত যুব সংগঠনের সাংগঠনিক রাশ অনেকাংশেই তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

দলের অন্দরে তাঁর প্রভাবের অন্যতম কারণ ছিল ‘ক্যামাক স্ট্রিটের গুডবুক’-এ নাম থাকা। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীনই ইডি ও সিবিআইয়ের নজরে এসেছিলেন দেবরাজ। এবার রাজ্য পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ তৎপরতায় তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।

সূত্রের খবর, বিধাননগর পুর এলাকায় নিয়োগ, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নানা অভিযোগের ভিত্তিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একটি বিশদ ডসিয়ার তৈরি করা হয়েছিল। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই তাঁর গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছিল প্রশাসন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের শীর্ষস্তরকে ঘিরে একের পর এক ঘটনায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। একদিকে হরিশ মুখার্জি রোডে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ ও কালীঘাটে লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুরসভার ডিমোলিশন নোটিশ, অন্যদিকে ফলতায় জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানো এবং তার পরপরই দেবরাজের আটক—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক ও আইনি চাপ বাড়িয়ে তৃণমূলের আর্থিক ও সাংগঠনিক ভিত দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ওবিসি কোটা বাতিল ইস্যুতে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত হওয়ার পর থেকেই এই চাপ আরও তীব্র হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।

এখন রাজনৈতিক মহলের নজর একটাই প্রশ্নে—দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ কি শুধুই ব্যক্তিগত দুর্নীতির তদন্ত, নাকি এর সূত্র ধরে সামনে আসতে চলেছে আরও বড় কোনও নাম?


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!