- দে । শ
- জুন ৩, ২০২৬
ফ্ল্যাট বেদখলের অভিযোগ, গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার
সল্টলেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি ফ্ল্যাট বেআইনিভাবে দখল করে রাখার অভিযোগে তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারকে গ্রেফতার করল বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। বাড়ির মালিকের অভিযোগ, প্রায় ১৪ বছর আগে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওই ফ্ল্যাটে ওঠার পর থেকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি আর ফ্ল্যাট খালি করেননি। বরং একাধিকবার আইনি নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও সেখানে থেকে গিয়েছেন। মালিকপক্ষকে নানা ভাবে হেনস্থা ও হুমকিও দিয়েছেন।
বুধবার, জয়প্রকাশকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায় সল্টলেকের ওই অঞ্চলে। বিক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘেরাও, ‘চোর চোর’ স্লোগান, রাস্তায় বচসা— নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্রকে। পুলিশ সূত্রের খবর, বাড়ি জবরদখল, হুমকি, কটূক্তি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে জয়প্রকাশের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বুধবার তাঁকে বিধাননগর উত্তর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় দেড় দশক আগে। অভিযোগ, ২০১২ সালে সল্টলেকের ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন জয়প্রকাশ। বাড়ির মালিক আরতি রায়চৌধুরীর পরিবারের দাবি, ২০১৫ সালে ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তার পর আর কোনো নতুন চুক্তি হয়নি। পুরনো চুক্তিরও নবীকরণ করা হয়নি। তা সত্ত্বেও ফ্ল্যাটের দখল ছাড়েননি তৃণমূল নেতা। বরং বছরের পর বছর ওই ফ্ল্যাট থেকেই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজকর্ম চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, বাড়িটি ফেরত পাওয়ার জন্য একাধিক বার অনুরোধ করা হয়েছিল। পাঠানো হয়েছিল আইনি নোটিসও। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই সাড়া মেলেনি। অভিযোগ, উল্টে বাড়ি খালি করার কথা তুললেই হুমকি দেওয়া হতো। কখনো কটূক্তি, কখনো চাপ সৃষ্টি— এ ভাবেই মালিকপক্ষকে দীর্ঘ দিন ধরে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
বুধবার দুপুরে দীর্ঘদিনের সে ক্ষোভই বিস্ফোরিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যেরা জয়প্রকাশের ফ্ল্যাটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জয়প্রকাশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভকারীরা। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। চারদিক থেকে ভেসে আসে ‘চোর চোর’ স্লোগান। কিছুক্ষণের জন্য নিজের গাড়ির ভিতরেই বসে থাকতে দেখা যায় তৃণমূল নেতাকে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ চলাকালীন তর্কাতর্কি চরমে ওঠে। এমনকি কয়েক জনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরতি রায়চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট। আরতির দেবীর মেয়ের অভিযোগ, ‘আমাদের নিজের বাড়িতে থাকার অধিকার পর্যন্ত নেই। বছরের পর বছর ধরে মা ভাড়া বাড়িতে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। এত দিন ধরে আইনি লড়াই করেও কোনো ফল হয়নি।’ তাঁর দাবি, আর বিলম্ব নয়, অবিলম্বে বাড়ির দখল ফিরিয়ে দিতে হবে।
স্থানীয়দের একাংশও মালিকপক্ষের পাশে দাঁড়ান। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার বিষয় ছিল। বারবার অভিযোগ উঠলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এক বাসিন্দা জানান, ‘বাড়ির মালিকের স্বামী মারা গিয়েছেন। তার পরেও পরিবারটি নিজেদের সম্পত্তির দখল ফিরে পায়নি। বহু বার নোটিস দেওয়া হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি।’ কয়েক দিন আগেও এ বাড়িকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, নিজের সম্পত্তির দখল ফিরে পেতে আরতি রায়চৌধুরী প্রতিবেশীদের নিয়ে সেখানে গেলে দু–পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। অভিযোগ, মহিলাকে চড় মারেন জয়প্রকাশ। বুধবারের ঘটনাকে সে টানাপড়েনেরই পরিণতি বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিন, বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি জয়প্রকাশকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাড়ির মালিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিজেপির একাংশের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সম্পত্তি দখল করে রাখা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের তরফে এ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
❤ Support Us






