Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২৩, ২০২৫

কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের বিশাল জয়। বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের বিশাল জয়। বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর

গতকাল অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল একেবারে প্রত্যাশিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে গেছে। তৃণমূলের প্রার্থী আলিফা আহমেদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বিজেপির প্রার্থী আশিস ঘোষকে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। তৃণমূল প্রার্থী প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,০২,১৭৯, যা বিজেপির প্রাপ্ত ৫২,৪২৪ ভোটের তুলনায় অনেক বেশি। কংগ্রেসের প্রার্থী কাবিলউদ্দিন শেখ পেয়েছেন ২৮,২৬২ ভোট। এই উপনির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে রাজনৈতিক মহলে, বিশেষ করে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে। তৃণমূল কংগ্রেসের এই জয়কে বেশ কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক আর পর্যবেক্ষকরা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দল ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে একটি ‘টেস্ট’ হিসেবে দেখছেন, যেখানে তৃণমূলের জনপ্রিয়তা এবং বিরোধী দলের মোকাবিলা করার সক্ষমতা পরখ হয়েছে।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জয় মা-মাটি-মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কালীগঞ্জের সব ধর্ম, জাতি এবং শ্রেণীর মানুষ আমাদের বিপুলভাবে আশীর্বাদ করেছেন। আমি নতমস্তকে তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানাই। এই জয় মা-মাটি-মানুষের জয়, এবং আমার দলের কর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন।’ মমতা আরো বলেন, ‘এ জয় আমার প্রয়াত বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদকে উৎসর্গ করছি। তাঁর অবদান ও স্মৃতিকে সন্মান জানিয়ে আমরা এই জয় অর্জন করেছি।’ তবে, বিরোধী পক্ষ বিশেষ করে বিজেপি আর সিপিআইএম জোড়াফুলের এ জয়কে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে না দেখে তৃণমূলের সহিংসতা আর অশান্তি, দুর্নীতির প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখছেন। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘এই নির্বাচন আমাদের ধর্তব্যের মধ্যেই ছিল না।’ অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই উপনির্বাচন বিজেপির মূল লক্ষ্য ছিল নয়, বরং শাসক দলের জন্যই একটি পরীক্ষা ক্ষেত্র ছিল। বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থীও এই ফলাফলে হতাশ। জোটের পক্ষ থেকেও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তৃণমূলের বিজয় মিছিলের সময় এলাকায় সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, নির্বাচনে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত ছিল, কিন্তু তাদের এমন এক ধরনের ‘জয়ের সংস্কৃতি’ রয়েছে যা রাজনৈতিক সহিংসতার দিকে নিয়ে যায়।

 


এই উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। বুথের ভিতর-বাইরের পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা হিংসা না ঘটে তার জন্য ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রায় ২,০০০ রাজ্য পুলিশ মোতায়েন ছিল। একাধিক কুইক রেসপন্স টিম এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ইউনিটও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে নির্বাচন কার্যত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও, নির্বাচনের পর বিজয় মিছিলের সময় ঘটে এক দুঃখজনক ঘটনা। কালীগঞ্জের মোলান্দি এলাকায় তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে একটি সকেট বোমা ছোড়া হয়, যার ফলে ১০ বছরের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তামান্না খাতুন নিহত হন। অভিযোগ, বিজয় মিছিল থেকে তৃণমূল কর্মীরা এই বোমা ছুঁড়ে, যা আহত করে শিশুটিকে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা বাম সমর্থক এবং এই সহিংসতার পেছনে তৃণমূল কর্মীদের হাত রয়েছে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য তৃণমূলকে দুষছেন এবং অভিযোগ করছেন যে, তৃণমূলের বিজয় মিছিলের সময় মোলান্দি এলাকার এক বাম সমর্থকের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা তৃণমূলের কালচার, যেখানে তারা নিজের জয়কেই সহিংসতার মাধ্যমে উদযাপন করে।’ তবে স্থানীয় তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা। তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী আলিফা আহমেদও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পুলিশকে ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমি তামান্না খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় হতবাক এবং গভীরভাবে দুঃখিত। আমার প্রার্থনা এবং চিন্তাভাবনা তার পরিবারের সঙ্গে রয়েছ। পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে।‘ তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি রুকবানু রহমান এই ঘটনার জন্য বিরোধীদের দায়ী করে বলেছেন, ‘এটা বিজেপির ষড়যন্ত্র, তারা এই ধরনের অশান্তি তৈরি করেছে যাতে তৃণমূলের জয়ের আবহ নষ্ট হয়।‘

জানা যাচ্ছে, পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং ১ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে, ঘটনার পেছনে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, এটি হয়তো দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে, কিন্তু পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী তৃণমূলের সহিংসতা ও ‘কুৎসিত জয়’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি। বিজয় মিছিলেও তারা সহিংসতা ছড়ায়, রাজনৈতিক অশান্তির দিকে ঠেলে দেয়।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!