- দিন-দুনিয়া দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৩
মৃত্যুর আঁধারে জ্ঞানের আলো। দুই আফগান কিশোরীর অদম্য বইপ্রেমের কাহিনী
সন্ত্রাসবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে মেয়েদের জন্য শিক্ষার দরজা বন্ধ। কিন্তু, নিষেধের বেড়াজালের মধ্যে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে চেয়েছিল দুই কিশোরী। তাদের সেই উদ্ভাবনী ভাবনার ফসল হল করবরস্থানের গ্রন্থাগার। যেখানে মৃত দুই মেয়ের প্রিয় বই ও পত্রপত্রিকার সম্ভারে গড়ে উঠছে জ্ঞান ও মননের অভিনব প্রদর্শশালা।
হাজার ও মার্জিয়া নামের ১৬ বছরের দুই কিশোরী গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এক আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে, কাবুলের এক স্কুল প্রাঙ্গনে মারা যায়। কাবুল থেকে বেশ কিছুটা দূরে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তাদের বাড়ি। সম্পর্কে দুজনে একে অপরের বোন। তবে, বন্ধুত্বও দুজনের মধ্যে কোনো অংশে কম ছিল না। পরিবারের সদস্যদের কথায়, বই পড়া ও লেখালেখিতে ভীষণ আগ্রহী ছিল তাঁরা। দেশ বিদেশের নামী-অনামী লেখকদের বই পড়ত । ছিল নিয়মিত ডায়েরি লেখার অভ্যাস। মৃত্যুর আগে তাঁরা প্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু আত্মঘাতী ঘাতকের বোমার আঘাতে ৫৩জন ছাত্রীসহ শ্রেণিকক্ষের মধ্যে তাঁদের মৃত্যু হয়। তাঁদের বিভিন্ন পড়ার বই, গল্পের বই, ডায়েরি , পত্রিকা নিয়ে যেখানে তাদের কবর দেওয়া হয়েছিল সেখানেই গড়ে উঠল এক অভিনব গ্রন্থাগার। পরিবারের সূত্রে খবর, দুই বোনের জ্ঞানলাভের অদম্য ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে তাঁদের এ উদ্যোগ। শুধু মৃত দুই ছাত্রী নয়, তাদের ২২ জন ভাইবোনের প্রচেষ্টায় আরো অনেক জানা-অজানা বই ঠাঁই পেয়েছে গ্রন্থাগারটিতে।
গ্রন্থাগারের কমলা রঙের দরজায় স্থান পেয়েছে মৃত মার্জিয়া ও হাজারার ছবি। পাইন গাছের গায়ে হেলান দেওয়া ছবিটিতে স্পষ্টতই ফুটে উঠেছে তাদের সহনশীলতা ও শক্তি। গ্রন্থাগারে আগত পাঠকের সংখ্যা খুব বেশি ত্তা বলা যাবে না। কারণ দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো ভাবে যাওয়ার উপায় নেই। তবে, গ্রন্থাগারের সঙ্গে যুক্ত ছেলেমেয়েরা নতুন নতুন বই আনছে। যার খবর ছড়িয়ে পড়াতে পাঠকদের মধ্যে আসবার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে । কাবুলবাসীদের মধ্যে এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। হাজারা এক আত্মীয়ের কথায়, আফগান মেয়েদের শিক্ষিত করে তোলার স্বপ্ন দেখত। সে স্বপ্নের গুরুত্ব এখন বুঝছে আমজনতা।
❤ Support Us




