Advertisement
  • বি। দে । শ
  • অক্টোবর ৮, ২০২৬

পরমাণু চুক্তি নিয়ে শর্ত নাকচ ইরানের, সুর বদল ওয়াইহাউসের ?

পরমাণু চুক্তি নিয়ে শর্ত নাকচ ইরানের, সুর বদল ওয়াইহাউসের ?

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৭ মাসব্যাপী যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যেখানে গোলাগুলি ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আলোচনার টেবিলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বিশেষত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের শর্ত থেকে অনেকটাই পিছিয়ে এসেছে। এখন জোর দিয়ে বলছে যে, ইরান যদি এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়, তাহলে তেহরানকে অবশ্যই পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি আলোচনায় আমেরিকার প্রধান শর্ত ছিল পারমাণবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে তেহরানকে। ওয়াশিংটন এখন নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসছে। এক প্রতিবেদনে জানা গেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের ওপর চাপ দিচ্ছে পারমানবিক সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা হ্রাস করার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হ্রাসের প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট হবে না, বরং তারা বাস্তবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ চায়। আগে ওয়াশিংটন পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানালেও, এখন সেই দাবি থেকে পিছিয়ে এসে তা সীমিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

সমৃদ্ধকরণ নামক এক বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরেনিয়ামকে আরও বিশুদ্ধ করা হয়। পারমাণবিক শক্তির জন্য এর প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই উদ্বেগও বাড়ছে যে, এটা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা হতে পারে। এই কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ জ্বালানি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না চায়, তাহলে তাদের এত বেশি মাত্রার সমৃদ্ধ জ্বালানি রাখার প্রয়োজন কী?

ভান্স বলেন, ‘‌ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরম হ্রাস করার নিছক প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট হবে না, ইরানকে বাস্তবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।’‌ ওয়াশিংটনের অবস্থান এখন বেশ স্পষ্ট। জেডি ভান্স জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ছাড় প্রয়োজন। ভান্স স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কাজের বদলে শুধু কথার আদানপ্রদান করবে না। তিনি আরও বলেন যে, ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অস্পষ্ট। তেহরানে কারা সিদ্ধান্ত নেয়, তা ওয়াশিংটন জানে না।

এই পুরো আলোচনা শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকেও প্রভাবিত করেছে। যুদ্ধ শেষ করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়াও দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার একটা প্রধান বিষয়। এই সমুদ্রপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অপরিহার্য। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করতে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সামরিক পদক্ষেপ আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তেহরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক উভয় চাপের মধ্যেই রয়েছে।‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!