Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • অক্টোবর ৬, ২০২৬

ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স ! অবরুদ্ধ রাজপথ, পড়ুয়াদের পাশে শ্রমিক সংগঠন, চাপ বাড়ছে মাক্রোঁ সরকারের উপর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স ! অবরুদ্ধ রাজপথ, পড়ুয়াদের পাশে শ্রমিক সংগঠন, চাপ বাড়ছে মাক্রোঁ সরকারের উপর

শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে শুরু হওয়া ছাত্র বিক্ষোভ ক্রমশ আরও তীব্র হচ্ছে ফ্রান্সে। শিক্ষক-সংকট, উপচে পড়া শ্রেণিকক্ষ, জরাজীর্ণ স্কুলবাড়ি এবং পড়াশোনার চাপ কমানোর দাবিতে পথে নেমেছেন সে দেশের স্কুল পড়ুয়ারা। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলন মঙ্গলবার কার্যত গণবিক্ষোভের চেহারা নিয়েছে। ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে পথে নেমেছে দেশের একাধিক বড়ো শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজ। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ আর গ্রেফতারের ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। গত এক সপ্তাহে কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন শত শত ছাত্রছাত্রী ও পুলিশকর্মী।

এহেন পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার উত্তর ফ্রান্সের লঁস শহরে এক ১৫ বছরের কিশোরের হাত উড়ে যাওয়ার ঘটনা যে আন্দোলনের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে। সূত্রের খবর, আগুস্ত-বেহাল ভোকেশনাল হাইস্কুলের কাছে বিক্ষোভ চলাকালীন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয় ওই কিশোর। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর ছোড়া একটি ‘স্টিং-বল’ বা ‘ডি-এনসার্কেলমেন্ট’ গ্রেনেড সে তুলে নিয়ে পুলিশের দিকে ছুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। ঠিক সে সময়ই সেটি তার হাতে বিস্ফোরিত হয়। তবে প্রশাসন জানিয়েছেন, কিশোরটি নিজে গ্রেনেডটি তুলেছিল, না কি সেটি তার কাছাকাছি এসে পড়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও সাম্প্রতিক বিক্ষোভে এটিই প্রথম গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা নয়। গত সপ্তাহে ১৪ বছরের এক কিশোরের মাথায় কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর চোট পেয়ে তার চোয়ালের দু-টি হাড় ভেঙে যায়। অস্ত্রোপচারও করাতে হয় তাকে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে, নাবালকদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট ব্যবহারের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা। তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁদের অধিকার এবং নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

ফ্রান্সে চলমান ছাত্র বিক্ষোভের সূত্রপাত গত মাসের শেষে প্যারিসের একটি শহরতলির স্কুলে। শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষে পড়ুয়ার সংখ্যা এত বেশি যে ঠিকমতো পড়ানোই সম্ভব নয়, বহু স্কুলের পরিকাঠামো জরাজীর্ণ — এ সমস্ত অভিযোগ সামনে এনে প্রথমে উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ শুরু করে। তার পরেই আন্দোলনে যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। ‘উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়াদের ইউনিয়ন’ বা ‘ইউএসএল’-এর নেতৃত্বে শুরু হয় স্কুল অবরোধ কর্মসূচি। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে লিল, মার্সেই, নঁত-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ‘ইউএসএল’-এর দাবি, গোটা দেশে প্রায় ১,৮০০টি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল অবরুদ্ধ অথবা বন্ধ রয়েছে। তাদের আরও দাবি, বহু বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়ুয়ারা অবরোধ শুরু করেছেন। উচ্চশিক্ষায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার নতুন আসন, স্কুলের জরুরি পুনর্নির্মাণের জন্য ১০ বিলিয়ন ইউরো ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবি তুলেছে ছাত্র সংগঠনগুলি।  সরকারি পরিসংখ্যান অবশ্য ছাত্র সংগঠনগুলির দাবির তুলনায় কম। শিক্ষা মন্ত্রকের হিসাবে, সোমবার ৫৮৯টি স্কুলে বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছিল।

মঙ্গলবার, প্যারিসে পড়ুয়ারা ডাস্টবিন এবং বেড়া দিয়ে স্কুলের সামনে ব্যারিকেড তৈরি করে। হাতে দেখা যায় নানান পোস্টার। তাতে লেখা, ‘আমাদের কথা শুনুন, কাঁদানে গ্যাস ছুড়বেন না।’ কিংবা, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ ছেলেখেলার বিষয় নয়।’ আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশের বহু স্কুলে শিক্ষক নেই। কোনো কোনো বিষয়ে মাসের পর মাস নিয়মিত ক্লাস হয় না। কোথাও আবার ৪০ জনের বেশি পড়ুয়াকে নিয়ে একই শ্রেণিতে ক্লাস করতে হচ্ছে। স্কুলগুলির ভবনও বহু ক্ষেত্রে সংস্কারের অভাবে কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। এর পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য এবং সরকারি বিনিয়োগে কাটছাঁট নিয়েও ক্ষোভ জমেছে পড়ুয়াদের মধ্যে। ‘ইউএসএল’-এর দাবি, সরকারকে একাধিক বার বিষয়গুলি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে হয়েছে তাদের। গত এক সপ্তাহের লাগাতার বিক্ষোভের জেরে সোমবার ফ্রান্সের প্রায় ৫০০টি স্কুল সম্পূর্ণ অথবা আংশিক ভাবে বন্ধ ছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে ২৪টি স্কুলে আগুন লাগানো বা ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে। তাঁদের বড়ো অংশই কিশোর-কিশোরী। মঙ্গলবার আরও বড়ো আকারে দেশ জুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলি। ফলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসনও।

ফ্রান্স সরকার অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে বলেছেন, ধাপে ধাপে স্কুলগুলিতে স্বাভাবিক পঠনপাঠন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নয় বলেই প্রায় ৫০০টি স্কুল আংশিক অথবা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে। জেফ্রে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২৪টি স্কুলে আগুন লাগানো বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে হিংসাত্মক কিছু গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানেই উঠে এসেছে অতি-বামপন্থীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ। ফরাসি সরকারের অভিযোগ, ছাত্রদের প্রকৃত দাবিদাওয়াকে সামনে রেখে আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে অতি-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলি। তারাই পরিস্থিতিকে হিংসাত্মক করে তুলছে বলে দাবি প্রশাসনের। শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রের কথায়, অতি-বামপন্থীরা পড়ুয়াদের আন্দোলন ‘দখল করে’ চরম হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এ ধরনের অভিযোগ মানতে নারাজ বামপন্থী সংগঠনগুলি। তাঁদের পাল্টা দাবি, শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা আর সরকারি বিনিয়োগের অভাব থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সে ক্ষোভকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দেখানোর চেষ্টা করছে মাক্রোঁর ব্যর্থ সরকার।

এর পাশাপাশি, ছাত্রদের মূল দাবিগুলি নিয়েও আলোচনা চালানোর কথা জানিয়েছে তিনি। জেফ্রে বলেছেন, শিক্ষাকর্মীদের ইউনিয়ন, অভিভাবকদের সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবেন তিনি। তবে ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, সরকারের প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়। তাদের বক্তব্য, স্কুলের সমস্যা সাময়িক ভাবে সামলানোর বদলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। আরও শিক্ষক নিয়োগ, ছোট শ্রেণিকক্ষ, জরাজীর্ণ স্কুলের দ্রুত সংস্কার এবং উচ্চশিক্ষায় নতুন আসন তৈরির দাবি জানিয়েছে তারা। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ২০২৭ সালের বাজেটে সরকারি ব্যয় কমানোর কথা ঘোষণা করে ফরাসি সরকার। তার পরেই বিক্ষোভে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। বিশেষ করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে এবার পথে নামতে শুরু করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলিও। ফ্রান্সের অন্যতম বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন-সহ একাধিক জাতীয় শ্রমিক সংগঠন ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্যারিস, লিয়ঁ, মার্সেই-সহ প্রায় ৩০টি শহরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। অভিভাবক ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যদেরও ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে। সাদা বাহুবন্ধনী পরে বেশ কিছু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বিক্ষোভস্থলে হাজির হয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য, আন্দোলনরত কিশোর-কিশোরীদের চারপাশে একটি নিরাপদ পরিসর তৈরি করা এবং পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানো। শিক্ষকদের সংগঠনগুলির একাংশও ছাত্রদের দাবিকে সমর্থন করেছে। শিক্ষকদের বক্তব্য, শিক্ষক-সংকটের প্রভাব শুধু পড়ুয়াদের উপর নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার উপর পড়ছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় অনেক সময় নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পড়াশোনার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে। সরকারের পাশাপাশি কট্টর-ডানপন্থী রাজনীতিকরাও অতি-বামপন্থীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ‘ন্যাশন্যাল র‍্যালি’-র নেত্রী মেরিন ল্য পেনের অভিযোগ, এটি আর শুধুমাত্র ছাত্রদের প্রতিবাদ নয়, বরং পেশাদার দাঙ্গাবাজদের সংগঠিত হিংসা। অন্যদিকে ‘লা ফ্রঁস আঁসুমিজ়’ (এলএফআই)-এর নেতা জঁ-লুক মেলঁশঁ পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর পুলিশি দমন নামিয়ে আনা উচিত নয়। তিনি সাধারণ মানুষকেও যুবকদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের উপরও তাই ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ। সরকারের তরফে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও ছাত্র সংগঠনগুলি স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু আশ্বাসে আন্দোলন থামবে না। তাদের দাবি, স্কুলের পরিকাঠামো এবং শিক্ষক-সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে। ফ্রান্সের সীমানা ছাড়িয়ে বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে বেলজিয়ামেও। লিয়েজ অঞ্চলে শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষা সংস্কারের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন পড়ুয়ারা।

অনেকেই চলমান ছাত্র আন্দোলনকে ১৯৬৮ সালের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে শক্তিশালী ছাত্র-যুব আন্দোলনগুলির একটি বলে বর্ণনা করেছেন। এর সঙ্গে এখন বৃহত্তর সরকারি-বিরোধী অসন্তোষের সঙ্গেও জুড়ে যাচ্ছে। শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, দমকলকর্মী ও পরিবহণ কর্মীদের একাংশও সরকারি ব্যয় কমানোর বিরোধিতায় আন্দোলনে নেমেছেন। ঠিক যেমন ৬৮ সালে ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলনের পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ শ্রমিকও ধর্মঘটে যোগ দিয়েছিলেন। ইতিহাসের পাতা বলছে, ৬৮-তেও অসন্তোষের প্রথম বড়ো স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল প্যারিসের উপকণ্ঠের নানতে বিশ্ববিদ্যালয়ে। উচ্চশিক্ষার বাড়তে থাকা চাহিদা সামলাতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টিই হয়ে উঠেছিল তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ক্ষোভের আঁতুড়ঘর। ১৯৬৮ সালের মার্চে সেখানে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং গোটা সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নেয়। ২ মে নানতে বন্ধ করে দেওয়া হলে আন্দোলনের কেন্দ্র সরে আসে প্যারিসের ঐতিহাসিক সোরবনে।

সোরবন চত্বরে পুলিশি হস্তক্ষেপের পর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে লাতিন কোয়ার্টারে; ব্যারিকেড, গ্রেফতার আর পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষে আন্দোলন দ্রুত জাতীয় সঙ্কটে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত সোরবন দখল করে ছাত্ররা সেটিকে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়-প্রশাসনের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতীকী মুক্তাঞ্চলে পরিণত করেছিল। সে আন্দোলনই পরে শ্রমিক ধর্মঘল ও বৃহত্তর সামাজিক বিক্ষোভের সঙ্গে মিশে ফ্রান্সের ইতিহাসে ‘মে ৬৮’ নামে অমর হয়ে যায়। আজ, প্রায় ছয় দশক পরে, স্কুলের গেট আটকে, রাস্তায় ব্যারিকেড তুলে, শিক্ষা-ব্যবস্থার সংকটের বিরুদ্ধে সরব তরুণ প্রজন্মের দিকে তাকালে তাই স্বাভাবিক ভাবেই ফিরে আসে নানতে ও সোরবনের স্মৃতি — ফরাসি ইতিহাসে ছাত্রদের প্রতিবাদ যে কখনও শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে থাকেনি, বরং বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের দাবিতে বিস্ফোরিত হওয়ার নজির রেখে গিয়েছে, সেই ইতিহাসই যেন আবার নতুন প্রজন্মের সামনে হাজির।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!