- দে । শ
- জুন ৩, ২০২৬
দিল্লিতে শাহের বৈঠকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকার, ‘মহারাষ্ট্র মডেল’ নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে
মঙ্গলবার রাতে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র জল্পনা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মধ্যেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর একই সময়ে নয়াদিল্লিতে উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের চর্চা।
সূত্রের খবর, রাতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। কোনও কোনও সূত্রের দাবি, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। গভীর রাতে নীতিন নবীনের বাড়ি থেকে শুভেন্দুর কনভয় বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুও জানিয়েছেন যে, দিল্লিতে তাঁর সঙ্গে শুভেন্দুর সাক্ষাৎ হয়েছে। এই বৈঠক ঘিরেই বাংলার রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, মহারাষ্ট্রে যে কৌশলে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায় ভাঙন তৈরি হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গেও কি সেই ‘মডেল’ প্রয়োগের প্রস্তুতি চলছে? বিজেপির শীর্ষ মহলের একাংশের দাবি, বাংলার রাজনীতিতে আগামী কয়েক ঘণ্টায় এমন কিছু ঘটতে পারে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বুধবারই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মহারাষ্ট্রের একনাথ শিন্ডে মডেলের মতো কোনও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
শুভেন্দুর আকস্মিক দিল্লি সফর নিয়ে প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, হয়তো মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতেই এই সফর। তবে সরকার গঠনের পর একেবারে শেষ মুহূর্তে দপ্তর বণ্টন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক বিজেপির স্বাভাবিক রাজনৈতিক রীতি নয় বলেই মনে করছেন অনেকে। ফলে শুভেন্দুর দিল্লি সফরের নেপথ্যে আরও বড় রাজনৈতিক পরিকল্পনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ ও সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী ও অধ্যক্ষকে একসঙ্গে দিল্লিতে ডাকা হয়েছে—এমন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সরাসরি বিজেপিতে নিয়ে আসার পথ আইনি দিক থেকে বেশ জটিল। পাশাপাশি, যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ বিজেপিকে জনসমর্থন দিয়েছে, সেই দলের নেতাদের দলে টেনে নিলে জনমানসে ভুল বার্তা যেতে পারে বলেও মনে করছে বিজেপির একাংশ।
রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, “বাংলার মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই দলের নেতাদের বিজেপিতে এনে পুরস্কৃত করলে সাধারণ মানুষের কাছে তা নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।”
এই কারণেই বিকল্প রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উঠে আসছে ‘মহারাষ্ট্র মডেল’-এর আলোচনা। আর এই গোটা পরিকল্পনার নেপথ্যে সবচেয়ে বেশি যে নামটি উঠে আসছে, তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধী শিবিরের দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চাপ তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর কৌশল এর আগেও বহুবার আলোচনায় এসেছে।
❤ Support Us






