Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • আগস্ট ৭, ২০২৬

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিজ্ঞপ্তি জারি, আপত্তি জানানোর সুযোগ নাগরিকদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিজ্ঞপ্তি জারি, আপত্তি জানানোর সুযোগ নাগরিকদের

কলকাতা পুরসভার দীর্ঘদিনের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ভোটার সংখ্যা ও জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে কলকাতা পুরসভার বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে নতুন করে ২০৯টি ওয়ার্ড তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিটি নতুন ওয়ার্ডের সীমানা ও অন্তর্গত এলাকার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের যুক্তি, কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটার ও জনসংখ্যার মধ্যে ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। কোনও কোনও ওয়ার্ড আয়তনে অনেক বড়, আবার কোনও ওয়ার্ড তুলনামূলকভাবে ছোট। কিন্তু উন্নয়নের জন্য কাউন্সিলরদের বরাদ্দ প্রায় একই থাকায় সব এলাকায় সমানভাবে উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সমস্যা দূর করতেই ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নোটিফিকেশন প্রকাশের পর কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে আপত্তি বা মতামত জানাতে পারবেন। সেই আপত্তিগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হবে। তবে এই প্রক্রিয়া এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর বিষয়টি বিধানসভায় পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। আপাতত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতা পুরসভায় ২০৯টি ওয়ার্ডই রাখা হচ্ছে।

ডিলিমিটেশনের ফলে কলকাতার বেশ কিছু পুরনো ওয়ার্ড বিলুপ্ত হয়ে যাবে। নতুন সীমানা অনুযায়ী নতুন ওয়ার্ড নম্বর তৈরি হবে। এমন অনেক এলাকা রয়েছে, যেগুলি বর্তমানে দুই বা তিনটি ওয়ার্ডের মধ্যে বিভক্ত, সেগুলিকে একত্রিত করে নতুন ওয়ার্ড তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১১ হাজার ভোটার বা নির্দিষ্ট জনসংখ্যা রাখা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে বুথের সংখ্যাও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কলকাতা পুরসভার বরোর সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি বরোর পরিবর্তে তা বাড়িয়ে ২০ থেকে ২৫টি করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, বর্তমানে এমন অনেক ওয়ার্ড রয়েছে যেগুলির আয়তন ও জনসংখ্যার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। অথচ প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একই পরিমাণ অর্থ পান। এর ফলে অনেক জায়গায় প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না। নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস হলে উন্নয়নমূলক কাজ আরও সুষমভাবে করা যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এর আগে জানানো হয়েছিল, কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া পুরসভারও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। ডিলিমিটেশনের পর হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে ৬৮টি হবে। এই পরিবর্তনের জন্য শীঘ্রই বিধানসভায় একটি বিল আনা হবে বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নতুন ওয়ার্ড তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার জনসংখ্যা রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের জন্য দুটি কমিটি তৈরি করা হয়েছিল—একটি পুরসভার স্তরে এবং অন্যটি বরোভিত্তিক। ফিল্ড সার্ভের পর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রস্তুত করা হয়।

কলকাতা পুরসভার পাশাপাশি পঞ্চায়েত স্তরেও পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে অনেক পঞ্চায়েতে সদস্য সংখ্যা বেশি থাকায় প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় সমস্যা হয়। তাই সুষ্ঠু প্রশাসনের জন্য পঞ্চায়েতগুলির পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের আগে এই ডিলিমিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, ডিলিমিটেশনের কাজ শেষ হওয়ার পর কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হবে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা হাওড়া পুরসভার নির্বাচনও দ্রুত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!