- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুন ১৮, ২০২৬
প্রকাশিত রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্সের মেধাতালিকা। শীর্ষে কলকাতার শাশ্বত, প্রথম দশে শহরের তিন পরীক্ষার্থী
পরীক্ষা শেষ হয়েছিল ২৪ মে। তার মাত্র ২৫ দিনের মধ্যেই প্রকাশিত হল পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার (ডব্লিউবিজেইই) ফলাফল। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠকে মেধাতালিকা ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা পর্ষদ (ডব্লিউবিজেইইবি)। এ বারও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশিকায় সাফল্যের নিরিখে এগিয়ে কলকাতা। মেধাতালিকার শীর্ষে রয়েছেন সল্টলেকের বাসিন্দা শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন কলকাতার আরও দুই পড়ুয়া। তবে শুধু মহানগর নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, হাওড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পড়ুয়ারাও এ বারের মেধাতালিকায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
পর্ষদের চেয়ারম্যান গৌতম পাল সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই পরীক্ষা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাকেও ধন্যবাদ জানান। কারণ, এ বারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অসম-ত্রিপুরাতে জয়েন্ট এন্ট্রান্সের পরীক্ষাকেন্দ্র খোলা হয়েছিল।
মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন কলকাতার সল্টলেকের বাসিন্দা শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজস্থানের কোটা শহরের নালন্দা অ্যাকাডেমিতে পড়াশোনা করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের সৌঋদ্ধ মণ্ডল। তিনি জোকার বিবেকানন্দ মিশন স্কুলের ছাত্র। তৃতীয় হয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের উমাং ভুট, পূর্ব ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পড়ুয়া। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার নিউটাউনের রাহুল কোনার, দিল্লি পাবলিক স্কুলের ছাত্র। পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন নদিয়ার বীজপুরের সর্বান ভট্টাচার্য, গার্ডেন হাই স্কুলের ছাত্র। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার আরহা ভট্টাচার্য, চন্দ্রকোণা জিরাট হাইস্কুলের পড়ুয়া। সপ্তম হয়েছেন হাওড়ার শিবপুরের সৃজন শুর। তিনি বালিগঞ্জের সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুলের ছাত্র। অষ্টম স্থান অর্জন করেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালির মণীশ সেনাপতি, মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের পড়ুয়া। নবম হয়েছেন সোনারপুরের সব্যসাচী লস্কর, প্রতাপগড়ের বিডিএম ইন্টারন্যাশনালের ছাত্র। দশম স্থানে রয়েছেন গড়িয়াহাটের দেবজিৎ পাল, তিনিও সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুলের ছাত্র।
এ বছরের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার জন্য মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯৪ হাজার ৯০১ জন। অর্থাৎ মোট নথিভুক্ত পরীক্ষার্থীর প্রায় ৭৯ শতাংশ পরীক্ষায় বসেন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৭ হাজার ৩৭৮ জন ছিলেন ছাত্র, ২৭ হাজার ৫২১ জন ছাত্রী এবং দু’জন তৃতীয় লিঙ্গের পরীক্ষার্থী। পর্ষদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ৯২ হাজার ৭৫৩ জন। সামগ্রিক পাশের হার ৯৭.৭৪ শতাংশ। সফল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৩৮৩ জন ছাত্র এবং ২৬ হাজার ৩৬৮ জন ছাত্রী রয়েছেন। তৃতীয় লিঙ্গের দু-জন পরীক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হয়েছেন। পর্ষদ জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের পরীক্ষার্থীদের পাশের হার ৭৯.৪২ শতাংশ।
চলতি বছর মোট ২৬৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ছিল ২৬৪টি কেন্দ্র, ত্রিপুরায় দুটি এবং অসমে একটি। গত ২৪ মে দু-দফায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১০০ নম্বরের গণিতের পরীক্ষা নেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত পদার্থবিদ্যা এবং রসায়নের পরীক্ষা হয়, যেখানে দুই বিষয়ে মোট ১০০ নম্বর নির্ধারিত ছিল। পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ, ব্লুটুথ ডিভাইস-সহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক গ্যাজেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। পর্ষদ সূত্রে খবর, নির্ধারিত সমস্ত নিয়ম মেনেই সুষ্ঠু ভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এ বছর প্রথম বার চালু করা হয় মাল্টিপল ওএমআর শিট ব্যবস্থা। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশ করা হয়েছিল প্রভিশনাল উত্তরসূচি। সে উত্তরসূচি নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগও দেওয়া হয়। একাধিক পরীক্ষার্থী উত্তর চ্যালেঞ্জ করেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি সমস্ত আপত্তি খতিয়ে দেখেছে। ধোঁয়াশা দূর করার পরই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। পর্ষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, দ্রুত কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা চলছে। যদিও কাউন্সেলিং শুরুর আগে কিছু প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি মাসের ২৯ জুন থেকেই অনলাইন কাউন্সেলিং শুরু হতে পারে।
পরীক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে থেকে পর্ষদের সরকারি ওয়েবসাইট— wbjeeb.nic.in এবং wbjeeb.in— থেকে নিজেদের র্যাঙ্ক কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি, ফার্মাসি ও আর্কিটেকচার বিষয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া যায়। প্রতি বছরের মতো এ বারও ফলপ্রকাশের পর নজর এখন কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার দিকে। কোন পড়ুয়া কোন প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাবেন, তা নির্ধারণে আগামী কয়েক সপ্তাহই হয়ে উঠতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❤ Support Us







