Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ২, ২০২৬

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউনিয়ন ফি’ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা ! ছাত্র তহবিলের হিসাব তলব নবান্নর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউনিয়ন ফি’ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা ! ছাত্র তহবিলের হিসাব তলব নবান্নর

রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি বহু বছর। অথচ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ফি’ বা ছাত্র সংসদ-সংক্রান্ত নানা খাতে পড়ুয়াদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। এবার সেখানে দাঁড়ি টানল রাজ্য সরকার। সরকারি ও সরকার-পোষিত সমস্ত কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ ফি আদায় বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর। শুধু তা-ই নয়এত দিন ধরে এ খাতে য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছেতার এক টাকাও খরচ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্র সংসদ তহবিলের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও জারি হয়েছে।

রাজ্যপালের নির্দেশে অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের তরফে জারি হওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছেবর্তমানে রাজ্যের অধিকাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ বা স্টুডেন্টস কাউন্সিল নেই। এ পরিস্থিতিতে ছাত্র সংসদের নামে কোনো ফি আদায় বে-আইনি। ফলে যেখানে নিয়ম মেনে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ কার্যকর নয়সেখানে অবিলম্বে ওই ফি সংগ্রহ বন্ধ করতে হবে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছেছাত্র সংসদ ফি বাবদ ইতিমধ্যেই যে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছেতা কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট অর্থ একটি পৃথক সুদযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সংরক্ষণ করতে হবে। ভবিষ্যতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়া বা উচ্চশিক্ষা দফতরের পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত এই তহবিল অক্ষত রাখতে হবে। অর্থাৎ ছাত্র সংসদ ফান্ডে জমা থাকা অর্থে আপাতত হাত দেওয়া যাবে না।

এর পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শেষ বৈধ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ছাত্র সংসদ তহবিল থেকে কত টাকা সংগ্রহ হয়েছেকোন কোন খাতে সে অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং ব্যয়ের যথাযথ নথি রয়েছে কি না — তার বিস্তারিত হিসাব খতিয়ে দেখতে হবে। প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে সেই অডিট রিপোর্ট আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ডিরেক্টর অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশনের (ডিপিআই) কাছে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ফি সংগ্রহ বন্ধ করাতহবিল সুরক্ষিত রাখা এবং অডিট সম্পন্ন করার মতো পদক্ষেপের উল্লেখ করে পৃথক কমপ্লায়েন্স রিপোর্টও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নবান্ন সূত্রের খবরদীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র সংসদের নামে আদায় হওয়া অর্থের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিত্ব না-থাকা সত্ত্বেও জোর করে অর্থ তোলার অভিযোগ সামনে এসেছে একাধিক বার। সে কারণেই ছাত্র তহবিলের আর্থিক লেনদেনকে প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মহলের একাংশের মতেছাত্র সংসদ ফান্ডকে ঘিরে সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাব দূর করতে সরকারের এই পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।

নির্দেশ জারি হওয়ার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। সোমবার রাতেই রাজ্যের প্রায় ৪৬০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তির প্রথম দফার আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তার আগেই নতুন নির্দেশিকা পৌঁছে যাওয়ায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের ফি কাঠামো নতুন করে খতিয়ে দেখতে হচ্ছে। কারণবহু ক্ষেত্রে সরাসরি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ফি’ না-থাকলেও অন্য নামে বা অন্য খাতের সঙ্গে যুক্ত করে একই ধরনের অর্থ নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। একই দিনে উচ্চশিক্ষা দফতরের ইন্টিগ্রেটেড ল সেল’-এর তরফেও একটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছেকলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফলে নির্দেশ অমান্য করলে তা আদালতের নির্দেশের অবমাননা হিসেবেই বিবেচিত হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

রাজ্যে শেষবার অধিকাংশ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। অন্য দিকেযাদবপুরপ্রেসিডেন্সিরবীন্দ্র ভারতী এবং ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শেষ ভোট হয়েছিল ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে। তারপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও নির্বাচন আর হয়নি। তৃণমূল জমানায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন চেয়ে এসএফআই, আইসা, ডিএসও সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সোচ্চার হয়েছে বারবার। প্রতিশ্রুতি মিললেও, বাস্তবে নির্বাচন করায়নি তৎকালীন রাজ্য সরকার।একাধিক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে জোর করে চাঁদা আদায়, পড়ুয়াদের হেনস্তা, র‍্যাগিংয়ের মতো অভিযোগ উঠেছে বারবার। নির্বাচিত ইউনিয়ন না থাকলেও, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছিল। শিক্ষামহলের অনেকের মতে, নয়া নির্দেশিকার মাধ্যমে দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দিকেই বড়ো পদক্ষেপ করল সরকার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!