- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২০, ২০২৫
ডাকাতিতে বাধা পেতেই সইফের ওপর হামলা, আদালতে দায় স্বীকার আততায়ীর
অভিনেতা সইফ আলি খানের উপর আক্রমণের ৪ দিন পর মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলো মুম্বাই পুলিশ । সইফের বাড়ি থেকে প্রায় ৩৫ কিমি দূরে, থানে শহরের হিরানন্দানি এস্টেটে মেট্রো নির্মাণকাজের পিছনে শ্রমিকদের থাকার জায়গা থেকে রবিবার (১৯ জানুয়ারি) ভোরে গ্রেফতার হন মোহম্মদ শরিফুল ইসলাম শেহজাদ । পুলিশ সূত্রে খবর ধরা পড়বার ভয়ে বিজয় দাস নামে লুকিয়ে ছিলেন তিনি । খাবারের অর্ডারে ইউপিআই পেমেন্টের সূত্র ধরেই তাঁকে ধরেছে পুলিশ । রবিবার বান্দ্রা আদলতে পেশ হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার করে নেন । এরপর আদালত তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেয়েছে । ঘটনার পুঃনির্মাণের নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি । গতকাল সান্তা ক্রুজ থানায় শরিফুলকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছে বলে খবর । পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তর কাছে কোনো ভারতীয় পরিচয় বা নথি নেই । পুলিশের দাবি শেহজাদ বাংলাদেশি নাগরিক, ৫-৬ মাস আগে সে অবৈধভাবে ভারতে এসেছে । একাধিক পরিচয় নিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছিলেন তিনি । কখনও বিজয় দাস, কখনও মোহাম্মদ ইলিয়াস তো আবার কখনও বিজে – দাবি মুম্বাই পুলিশের ।
পুলিশের জেরার মুখে শরিফুল জানিয়েছে, তিনি অভিনেতার বাড়ি সম্বন্ধে তেমন কিছুই জানতেন না । জানতেন না, সইফ আলি খানের বাড়িতে চুরি করতে ঢুকেছেন । এমনকি, অভিনেতাকে পর্যন্ত চিনতেন না বলে দাবি করেছেন তিনি । তিনি পরে জানতে পারেন, যাঁকে আক্রমণ করেছিলেন তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা । ঘটনার পুনঃনির্মাণের জন্য ‘সতগুরু শরণ’ অ্যাপার্টমেন্ট আক্রমণকারীকে ফের নিয়ে যাবে পুলিশ । ১৬ জানুয়ারি গভীর রাতে সইফ আলি খানকে তাঁর বান্দ্রার বাড়িতে ছুরি দিয়ে কোপানো হয় । বর্তমানে লীলাবতী হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে পতৌদির নবাবের । তদন্তে নেমে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছিল মুম্বাই পুলিশের বিশেষ দল । কিন্তু মূল অভিযুক্ত অধরাই ছিল ।
পুলিশ জানিয়েছে, আক্রমণের পর গত ১৬ জানুয়ারি অভিযুক্ত বান্দ্রাতেই ছিলেন । এরপর ট্রেনে চেপে ওয়ারলি পৌঁছান তিনি । অভিযুক্তের কাছ থেকে হাতুড়ি, স্ক্রু ড্রাইভার, নাইলনের দড়ি উদ্ধার করা হয়েছে । মুম্বই পুলিশের (অপরাধ দমন) ডিসিপি দীক্ষিত গেদাম জানিয়েছেন, শেহজাদ বাংলাদেশের নাগরিক । গত ৫ মাস ধরে তিনি মুম্বাইয়ে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছিলেন। চুরির অভিযোগে এক নামি রেস্তোরাঁ তাঁকে কাজ থেকে বের করে দেয় । যদিও ধৃতের আইনজীবী সন্দীপ শেরানির দাবি, তাঁর মক্কেল যে বাংলাদেশের নাগরিক, এমন কোনও প্রমাণ পুলিশের হাতে নেই । তা ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো কোনও অভিযোগও পুলিশ আনতে পারেনি ।
অন্যদিকে অভিযুক্ত বাংলাদেশের নাগরিক এই খবর সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা । শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরে বলেছেন, ‘সইফ আলি খানের বাড়িতে ঢুকে ছুরি হামলা মুম্বাইয়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা সামনে আনে । আমরা খুশি, তিনি স্থিতিশীল আছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করি ।’ এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার ও শিবসেনার অন্যান্য নেতারাও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে ।
মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার বলেছেন, অভিযুক্তের উদ্দেশ্য ছিল ডাকাতি, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আক্রমণ করা নয় । অজিত আরো বলেছেন, ‘সইফের বাড়ির ঘটনায় কিছু বিরোধী নেতা দাবি করেছেন যে মুম্বইয়ে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে । তবে এই ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন । অভিযুক্ত বাংলাদেশ থেকে এসেছিল, প্রথমে কলকাতায় এবং পরে মুম্বইয়ে আসে । সে জানত না যে বাড়িটি একজন তারকার ।’
বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য তাঁর X-হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘মুম্বই পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে সাইফ আলি খানকে আক্রমণ করা ব্যক্তি মহম্মদ শরিফুল ইসলাম একজন বাংলাদেশি । ভারতে সে একজন অবৈধ বাসিন্দা । হিন্দু পরিচয় নিয়ে এখানে থাকছিল সে । ইন্ডিয়া জোটের কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসাবে এই সব অবৈধ অভিবাসীদের তোষণ করে এলেছে । তারা এই ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল । হিন্দুদের অপমান করার জন্য তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত ।’
অন্যদিকে লীলাবতী হাসপাতাল সূত্রে খবর সইফের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে । ১-২ দিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেতে পারেন তিনি ।
❤ Support Us






