- দে । শ
- নভেম্বর ১৯, ২০২৫
১৩৫ বছরের প্রাচীন পুজো কাটোয়ার তাঁতিপাড়ায়
সাবেক প্রথা মেনে মুড়ির নাড়ু ছিটিয়ে কার্তিক পুজো উদযাপন মহিলাদের। এই প্রথা অনুযায়ী হাজার নাড়ু বাড়ির ছাদ থেকে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। আর সেই নাড়ু কুড়নোর জন্য অপেক্ষায় থাকেন দর্শনার্থী থেকে এলাকার বাসিন্দারা। রীতিমত মেলা বসে যায়। কাটোয়ার ঐতিহ্যের কার্তিক পুজোর সূচনা হয় তাঁতিপাড়ার এই ‘সাতইভাই কার্তিক’ পুজো দিয়ে।
কাটোয়ার প্রাচীন ইতিহাস গবেষক রণদেব মুখোপাধ্যায় জানান, ‘১৮৯০ সাল নাগাদ বিশিষ্ট বস্ত্র ব্যবসায়ী রাধাবল্লভ খাঁ কাটোয়ায় কার্তিক পুজোর সূচনা করেন। কার্তিককে সন্তান হিসেবে দেখা হত। তাই পুজোয় মুড়ির নাড়ু, লজেন্স, খেলনা দেওয়া হত। সেই রীতি আজও বহমান।’ মানত-মানসিকের জন্য খ্যাত এই কার্তিকের কাছে মনস্কামনা পূরণ হলে মুড়ির নাড়ু উৎসর্গ করার রীতিও দীর্ঘদিনের। সেই পরম্পরা মেনে শনিবার নাড়ু ছেটানো উৎসবে মাতলেন এলাকার মহিলারা। ভোগে মুড়ির নাড়ু অভিনব। দাবি পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্য সন্দীপ প্রসাদ খাঁয়ের। পুজোর পর মুড়ির নাড়ুর সঙ্গে লজেন্স, চকলেট ছেটানো হয়। এলাকার বাসিন্দা মনীষা প্রামাণিক, তনুশ্রী দত্তরা বলছিলেন, ‘সাতভাই কার্তিককে নানারকম খেলনা, ঝুমঝুমিও দেওয়া হয়।’ উল্লেখ্য যে, কাটোয়ার কার্তিক গৃহস্থের দেবতা ছিলেন।
ঊনবিংশ শতকের শেষদিকে গেরস্তের কার্তিক ব্যবসাদারদের হাত ধরে সর্বজনীন রূপে পুজো পেতে শুরু করে। কাটোয়ার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী রাধাবল্লভ খাঁয়ের হাত ধরেই তাঁতিপাড়ায় সাতভাই কার্তিকের পথচলা শুরু হয়। সন্তানহীনা খাঁ পরিবারের এক বধূ স্বপ্নাদিষ্ট হয়েছিলেন। তারপরই পরিবারের অভিভাবক রাধাবল্লভ খাঁ কার্তিক পুজোর পত্তন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই কার্তিক বারোয়ারি হয়ে গেলেও সূচনাকালের আচার নিয়ম প্রথা সবই অটুট আছে। সন্তান কামনা বা সন্তান রক্ষায় সাতভাই কার্তিকের কাছে আজও অনেকে মানত করে থাকেন।
❤ Support Us





