- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫
পুরুলিয়ায় কুরমি আন্দোলনে পুলিশের উপর হামলা, জখম ২ আইপিএস সহ ৬ নিরাপত্তাকর্মী। গ্রেফতার ২৯
কুরমি সম্প্রদায়ের তপশিলি জনজাতির স্বীকৃতি দাবিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তাল পুরুলিয়া। কোটশিলা রেল স্টেশনে চলমান রেল অবরোধ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন পুলিশকর্মী, যাঁদের মধ্যে ২ জন আইপিএস অফিসারও রয়েছেন। পুলিশি হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠলেও এলাকাজুড়ে চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সকালে কোটশিলা স্টেশনে ‘রেলরোকো’ কর্মসূচী করতে রেললাইনের উপর বসে পড়েন কুরমি সম্প্রদায়ের হাজার খানেক পুরুষ-মহিলা ও শিশু। তাঁদের দাবি একটাই—কেন্দ্র যেন কুরমিদের তপশিলি জনজাতির স্বীকৃতি দেয়। আন্দোলনের মুখে পড়ে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় আদ্রা শাখার একাধিক রুটে। রেলপথ অবরোধকারীদের সরাতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীরা তাঁদের দিকে পাথর ছুড়তে শুরু করে, যার আঘাতে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। এরপর শুরু হয় ধরপাকর। ২৯ জনকে আটক করে রোববার আদালতে পেশ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্ধু অধিকারী এই ঘটনাকে ‘পুলিশি তাণ্ডব’ বলে সমালোচনা করেছেন।
পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘রেল অবরোধের সময় মহিলাদের সামনে রেখে পাথর ছোড়া হয় পুলিশের দিকে। তাই আইন মেনে দেরিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ পদক্ষেপ করেছে।’ তিনি আরো জানান, ‘ঘটনার পর এলাকা এখন শান্ত। কোথাও আর কোনো অবরোধ নেই। রেল চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।’ অন্য দিকে, কুরমি সমাজের নেতা অজিত প্রসাদ মাহাতো পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন, ‘পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরপাকড় করছে। নানা জায়গায় নাকা চেকিংয়ের নামে আমাদের আটকানো হয়েছে। আমাদের সমর্থকরা ভয়ে গা ঢাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। রীতিমতো পুলিশি সন্ত্রাস চলছে।’ তিনি ঘোষণা করেছেন, ৫ অক্টোবর দুর্গাপুজোর পরে পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে এক বৃহৎ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করবেন। ওই দিনই জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত মাসেই কুরমি সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘আদিবাসী কুরমি সমাজ’ পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা ৩ রাজ্যে একযোগে রেল ও সরক অবরোধর ডাক দিয়েছিল। সূত্রের খবর, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল যে, আন্দোলনের জেরে যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই মতো আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে। তবুও সংঘর্ষ আটকানো গেল না। বর্তমানে কোটশিলা স্টেশনের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও, জেলা প্রশাসন ও গোটা পুলিশ বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছি। কেউ আইনের বাইরে গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের তরফে হুঁশিয়ারি, দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আগামী দিনে আরো বড়ো কর্মসূচির ইঙ্গিতও মিলেছে কুরমি নেতৃত্বের মুখে। এই টানাপোড়েনের মাঝে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কোটশিলা ও সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের সামনে এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ— আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে কোনো পক্ষর উপর অবিচার না করা।
❤ Support Us






