- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৫, ২০২৫
জয়সালমীরে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা। অগ্নিদগ্ধ ২০, গুরুতর আহত ১৬
রাজস্থানের জয়সালমীরে এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেলেন ২০ জন যাত্রী। ১৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারবর্গকে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টে নাগাদ জয়সালমীর থেকে ৫৭ জন যাত্রী নিয়ে একটা বেসরকারি বাস যোধপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। জয়সালমীর–যোধপুর মহাসড়কে যাওয়ার সময় চলন্ত বাসের পেছন দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। বাসের চালক তাৎক্ষণাৎ বাসটি রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে দেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই গোটা বাসে আগুন লেগে যায়। দাউদাউ করে বাসটি জ্বলতে থাকে। বাসটি মাত্র ৫দিন আগে কেনা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পথচারীরা বাসটি আগুনে জ্বলতে দেখে সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দলও হাজির হয়। দমকলের চেষ্টায় বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে প্রথমে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে জয়সালমীরের জওহর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৪ মহিলা ও দুজন শিশুসহ গুরুতর আহত ১৬ জনকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যোধপুরের এক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কয়েকজনের শরীরের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। জরুরি স্থানান্তরের সুবিধার্থে ১২৫ নম্বর জাতীয় সড়কে একটা সবুজ করিডোর তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশ আটটি অ্যাম্বুলেন্সকে এসকর্ট করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
জয়সালমীর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগুন লাগার খবর পেয়েই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। আহত যাত্রীরা যাতে দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসা পান প্রশাসনের কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা কালেক্টর প্রতাপ সিং। ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পর্কে তথ্য জানতে পরিবারের জন্য হেল্পলাইন নম্বর জারি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, শর্ট সার্কিট থেকে বাসটিতে আগুন লাগে।
জেলা কালেক্টর নিশ্চিত করেছেন যে বাসটি সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়ে গেছে এবং অনেক যাত্রী এমনভাবে দগ্ধ হয়েছে যে শনাক্তযোগ্য নয়। যোধপুর থেকে ডিএনএ এবং ফরেনসিক দল শনাক্তকরণে সহায়তা করার জন্য পৌঁছেছে। জেলা কালেক্টর প্রতাপ সিং বলেন, ‘আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় অনুসরণ করা প্রোটোকলের অনুরূপ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। তারপরই মৃতদেহগুলি তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
বাসে আগুন লাগার খবর পেয়েই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে জয়সালমীরে পৌঁছে যান রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা। তিনি উদ্ধার ও ত্রাণে সাহায্যকারী সেনা সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পোখরানের বিধায়ক প্রতাপ পুরী, বিধায়ক সঙ্ঘ সিং ভাটি এবং জেলা প্রশাসনের কর্তারা। ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার কারণে মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা পাটনায় এক পূর্বনির্ধারিত প্রচার কর্মসূচিও বাতিল করেছেন।
এক্স–এ এক পোস্টে ভজনলাল শর্মা বলেছেন, ‘জয়সালমীরে বাসে আগুন লাগার ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরণের সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ রাজস্থানের রাজ্যপাল হরিভাউ বাগাড়ে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি মদন রাঠোরসহ রাজনৈতিক নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন। এক্স–এ তিনি লিখেছেন, ‘রাজস্থানের জয়সালমীরে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় আমি মর্মাহত। এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ও তাদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ প্রধানমন্ত্রী নিহতদের প্রত্যেকের নিকটাত্মীয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০,০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণও শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘রাজস্থানের জয়সালমীরে মর্মান্তিক বাস অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’
❤ Support Us






