Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • এপ্রিল ১০, ২০২৬

এবারের নির্বাচন গণতন্ত্রের স্বার্থে যুদ্ধ, বসিরহাটে প্রচারে বললেন মমতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এবারের নির্বাচন গণতন্ত্রের স্বার্থে যুদ্ধ, বসিরহাটে প্রচারে বললেন মমতা

অন্যবারের নির্বাচনের থেকে এবারের নির্বাচনের পার্থক্য আছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে আমাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এই নির্বাচন আমার স্বার্থে নয়। আপনাদের স্বার্থে, আপনার সন্তানের স্বার্থে, পরিবারের স্বার্থে, আপনার ঠিকানার স্বার্থে এই নির্বাচনকে দেখবেন। বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, এবারে বিজেপিকে ভোট দেবেন না। বসন্তের কোকিলের মত উড়ে যাবে। আপনাদের কী হবে। ঠিকানা, আশ্রয়, খাদ্য কেড়ে নেবে। আজ উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর কেন্দ্রে দলের প্রার্থী বীনা মণ্ডল ও বসিরহাট উত্তরে তৌসিফুর রহমানের, বসিরহাট দক্ষিণে সুরজিৎ মিত্র বাদলের সমর্থনে ২ টি জনসভা করেন মমতা।

বসিরহাট উত্তরে ব্রহ্মানন্দ বিদ্যাভবন মাঠের সভায় রাজ্য সরকারের প্রকল্প তুলে ধরেন । তার আগে স্বরূপনগরের তেঁতুলিয়ায় বীনা মণ্ডলের সমর্থনে সভা করেন। বিজেপিকে তীব্র আক্রমণের পাশাপাশি রাজ্যের তৃণমূল সরকারের প্রকল্পগুলি তুলে ধরেন। মমতা বলেন, আগের বার এসে বলেছিলাম লক্ষ্মী ভান্ডার করে দেবে। করে দিয়েছি। ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন সেটা ১৫০০ আর ১৭০০ করে দিচ্ছি। আমরা নির্বাচনের সময় এসে বলি না। আগে করে দিই। বিজেপি এখন মিথ্যে কথা বলে বেড়াচ্ছে, ওরা নাকি অনেক দেবে। জানেন তো বিহারে ভোটের আগে মেয়েদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে  ৮ হাজার টাকা দিয়েছিল। আর ভোটের পর বুলডোজার চালিয়েছে। আর এক পয়সাও দেয়না। আমাদের লক্ষ্মী ভান্ডার সবাই পায়। বিজেপি যেটা চালু করেছিল টুকলি করে তাতে স্কুটার থাকলে পাবে না, টিভি থাকলে, পাকা বাড়ি থাকলে পাবে না। তাহলে কে পাবে ?‌ একটা পরিবারে একটা পরিবারে একজনই পাবে। আর আমাদের লক্ষ্মী ভান্ডার সাবাই পায়। এবারে বলে যাচ্ছি, আগামীদিন এই লক্ষ্মী ভান্ডার সারাজীবন পাবেন আপনারা। মমতা যখন এই কথাগুলে বলছিলেন সেই সময় গোটা সামাবেশ থেকে মহিলারা উলুধ্বনি দিয়ে ওঠেন। আমরা বিজেপির মত মিথ্যা কথা বলি না। আমরা যেটা বলি, সেটা করি। বিজেপি ভুলে গেছে আমোদি–‌মোদিবাবু বলেনি ১৫ লাখ টাকা করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেবেন, বছরে ২ কোটি চাকরি দেবেন, কালো টাকা ফেরাবে বলে নোটবন্দী করে আপনাদের টাকা কেড়ে নিয়েছিল— এসব পেয়েছেন ?‌ তিনি বলেন, গ্যাসের দাম, পেট্রোল ডিজেল, ট্রেনের ভাড়া বেড়েছে কত ?‌ সব জিনিসের দাম বেড়েছে, শুধু মানুষের জীবনের দাম  কমেছে। বিজেপির আমলে সারা দেশটাকে শেষ হয়ে গেছে।

মমতা বলেন,  ‘‌গতকাল অসমে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে ভোট হয়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে ট্রেনে করে ৫০ হাজার লোক এনেছে আমি শুনেছি।  আমাদের আসামে ইউনিট আছে। আমাকে সুস্মিতা দেব  বলেছে।’‌ তিনি বলেন, ‘‌এত অত্যাচার, এত অনাচার, এত স্বৈরাচার?‌ ভোটের আগে কেন করল এসআইআর। এই তালিকায় তো মোদিবাবু , মোটাভাই জিতে ছিলেন। তাহলে তাঁরা পদত্যাগ করুন। যদি এই তলিকায় অনুপ্রবেশকারী থাকে। বর্ডার সামলায় কে?‌ সিআইএসএফ, সিবিআই চালায় কে?‌ কেন্দ্রীয় সরকার। যদি কোন অনুপ্রবেশকারী ঢোকে তাহলে অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিৎ। আমরা নয়। কেননা আমরা অনুপ্রবেশকারী ঢোকাই নি। বিমানে এলে তল্লাশি করে কাস্টমস , ট্রেনে এলে রেল ওগুলো কেন্দ্রের অধীনে। মমতা বলেন, বাংলা অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা নয়। এটা মানবিক মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা। এখানে মানুষ ভালো থাকে। এস সঙ্গে থাকে, এটাই বাংলার সম্প্রীতি, বাংলার সংস্কৃতি। মমতা বলেন, আজ একটা সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছে। তার মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু, আর ৩০ লক্ষ সংখ্যালঘু। এটা সঠিক কিনা জানিনা। আমাকে ব্লকে ব্লকে রিভিউ করে দেখব। অসমে এনআরসিতে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল ২০১৮ সালে । তার মধ্যে ১৩ লক্ষ হিন্দু নাম বাদ যায় আর ৬ লক্ষ মুসলিমের নাম বাদ যায়।  বুঝুন এরা হিন্দু মুসলমান করে। এদের লজ্জা থাকা উচিৎ। সৌদি আরবে গিয়ে নবাবের গলা ধরে কোলাকুলি করে। দুবাই যান এক টেবিলে বসে খান তখন মনে থাকে না। এখন আবার দেখছিলাম ওমানে গোমাংস সরবরাহ করবে। তাহলে ?‌ বড় বড় কথা।

এই দেব, সেই  দেব। আজ পর্যন্ত কিছুই দেননি কাউকে। বরঞ্চ ২ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্রের কাছে আমরা পাই।  যুবসাথী যারা পেয়েছেন আগামীদিন জীবিকার সন্ধান করে দেব। যারা পান নি তারা পেয়ে যাবেন। লক্ষ্মী ভান্ডার সারাজীবন চলবে। এটা মা বোনেদের পাওয়ার অধিকার। বিজেপি মিথ্যা কথার কারখানা। বিজেপি মানুষের যন্ত্রনা। বাংলাকে করে বঞ্চনা। ওদের কেউ ভোট দেবেন না।  মমতা বলেন, আগামী দিন আপনার ঠিকানা থাকবে কি না সন্দেহ। ওদের চেষ্টা করবে এনআরসি করা। আমাদের সরকার থাকলে এনআরসি করতে দেব না। বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। বিজেপির পরিকল্পনা এনআরসি করবে।  ডিলিমিটেশন করে বাংলাকে ৩ টুকরো করতে চায়।  মাছ মাংস ডিম খেতে দেবেনা। কাল মোদিবাবু এসে মাছ ভাতের কথা বলছেন। লজ্জা করে না । বিজেপির রাজ্যে মাছ, মাংস, ডিমের দোকান মেরে বন্ধ করে দিয়েছেন।বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, এবারে বিজেপিকে ভোট দেবেন না। বসন্তের কোকিলের মত উড়ে যাবে। আপনাদের কী হবে। ঠিকানা, আশ্রয়, খাদ্য কেড়ে নেবে। ওরা ৩৬৫ দিন থাকে না। ঝড়ে, বন্যায় থাকে না, দুঃখে থাকে না। শুরু লোক মারে, সন্ত্রাস করে আর দাঙ্গা করে। এই দাঙ্গাকারীদের একটি ভোটও নয়। আমি যদি যোদ্ধা হই, মা বোনেরা আমার সহযোদ্ধা। ভাইয়েরা আমার পাহারাদার। আমাদের অপমান করেছে, লাইনে দাঁড় করিয়েছেন এর বদলা নেবেন। গণতন্ত্রে বদলা মানে , তৃণমূলকে একটা ভোট দেবেন আর বদলা নেবেন।

এদিন সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা দখল করার জন্য বিজেপি হয়েছে হ্যাংলা। প্রার্থীদের নোটিস দিচ্ছে। সব পুলিশকে নোটিশ দিচ্ছে। যেন মনে হচ্ছে বিজেপি ছাড়া দেশে আর কোন দল নেই। বড় বাচ্চারা দুষ্টুমি করবে মা তাকে একটু বকে দেয়। আর বড়বাবুরা দুষ্টুমি করলে ধরে ধরে গণতন্ত্রের থাপ্পর মারতে হয়।  ওরা ভোটিং ধীরে করবে। ইভিএম মেশিন খারাপ করে দেবে। ইভিএম মেশিন খারাপ হয়ে গেলে ওই মেশিনে ভোট দেবেন না। সারাতে গেলে সারাতে দেবেন না। নতুন মেশিন আনতে হবে। তিনি বলেন,‘‌গণনার পরেও বদমাইশি করতে পারে। স্লো কাউন্টিং করবে। ধৈর্য হারাবেন না।’‌ সকাল থেকে রটাবে স্লো কাউন্টিং করে বিজেপির আসন গুলো আগে দেখাবে। আমাদের আসনগুলে স্লো কাউন্টিং করবে যাতে আপনারা তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যান আর সবটা দখল করে নেবে। এটা করতে দেবেন না। কাউন্টিংয়ের ফল না নিয়ে একজন এজেন্টও  বেরবেন না। এক পক্ষ। দেশে কোন নিরপেক্ষতা নেই। সংবিধান শেষ করে দিয়েছে। গণতন্ত্র শেষ করে দিয়েছে। কোন কিছু নেই। আমি তো রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্টেও ছুটে গিয়েছিলাম। কোনটা নিয়ে লড়াই করিনি, আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছি। আবার লড়াই করব। চিরজীবন লড়াই করে যাব। কিন্তু জল্হাদদের হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করব।’‌

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!