Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৯, ২০২৫

বস্তারে ২১ মাওবাদীর অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ। ‘পুনর্বাসন’ই ছত্তিশগড়ে নয়া রাষ্ট্রীয় কৌশল ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বস্তারে ২১ মাওবাদীর অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ। ‘পুনর্বাসন’ই ছত্তিশগড়ে নয়া রাষ্ট্রীয় কৌশল ?

ছত্তিশগড়ের ঘন জঙ্গলে লাল আতঙ্কের দুর্গ বলে পরিচিত উত্তর বস্তার জেলায় বুধবার ঘটেছে এক প্রতীকী পরিবর্তন। একযোগে ২১ জন সক্রিয় মাওবাদী সদস্য আত্মসমর্পণ করলেন পুলিশের কাছে। সঙ্গে জমা পড়ল ১৮টি অস্ত্র, যার মধ্যে রয়েছে একে-৪৭, ইনসাস, এসএলআর থেকে শুরু করে একাধিক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র।

জঙ্গলওয়ার কলেজ প্রাঙ্গণের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান সাক্ষী থাকল এক অভিনব দৃশ্যের। লাল গালিচা পেতে স্বাগত জানানো হলো গেরিলা যোদ্ধাদের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পি। তিনি প্রত্যেক আত্মসমর্পণকারীকে হাতে তুলে দেন ভারতের সংবিধানের একটি কপি, যেন প্রতীকী ভাবে জানিয়ে দেওয়া যায়, তাঁরা এখন আবার ফিরে আসছেন গণতন্ত্রের মূল স্রোতে। আইজি সুন্দররাজ জানিয়েছেন, ‘আজ কানকার জেলার উত্তর অংশে, বিশেষ করে উত্তর বস্তার ও কেসকেল বিভাগের ২১ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন মহিলা ও ৮ জন পুরুষ। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি তাঁদের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। আমরা বার্তা দিতে চাই — যারা অস্ত্র ছাড়তে রাজি, তাঁদের জন্য খোলা আছে পুনর্বাসনের পথ; কিন্তু যারা এখনও হিংসার পথেই আস্থা রাখছে, তাদের জন্য আইন কঠোর।’

ছত্তিশগড় প্রশাসনের সাম্প্রতিক কৌশলগত পরিবর্তনই রয়েছে এই অভূতপূর্ব ঘটনার নেপথ্যে। এতদিন যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান মানেই বন্দুকযুদ্ধ, সেখানে এখন গুরুত্ব পাচ্ছে আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন। রাজ্যের উচ্চপদস্থ এক কর্তা বলেন, ‘আমরা বুঝেছি, গুলিতে শেষ নয় সমস্যার মূলে পৌঁছনোই আসল সমাধান।’ নতুন নীতির জোরেই চলতি মাসের গোড়াতেই জগদলপুরে আত্মসমর্পণ করেছিল ২০৮ জন মাওবাদী। তাঁদের কাছ থেকেও উদ্ধার হয়েছিল ১০৯টি অস্ত্র। বুধবার কানকারের আত্মসমর্পণে দুটি এরিয়া কমিটির সদস্যরা একযোগে অস্ত্র নামিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, মাওবাদী সংগঠনের ‘অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার’ এটিই সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ। আইজি সুন্দররাজ জানিয়েছেন, ‘একসময় মাওবাদী কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরো মিলিয়ে প্রায় ৪৫ জন শীর্ষ নেতা ছিল। ২০২৫ সালের শুরুতে তা নেমে আসে ১৮ জনে। এখন মাত্র ৬-৭ জন রয়ে গিয়েছে, যারা দক্ষিণ বস্তারের জঙ্গলে আত্মগোপন করে আছে।’ এরপর তিনি মাও-নেতাদের সতর্ক করে বলেন, ‘এখনই সুযোগ, যাঁরা এখনো জঙ্গলে আত্মগোপন করে আছেন, তাঁরা যেন আত্মসমর্পণ করেন। অন্যথায় সংঘাত হলে জেলা রিজার্ভ গার্ড সম্পূর্ণ প্রস্তুত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায়।’

কেসকেল এরিয়া কমিটির সদস্য আত্মসমর্পণকারী এক মহিলা মাওবাদী সদস্য বলেছেন, ‘আমরা বুঝেছি, বন্দুক নিয়ে পাহাড়-জঙ্গলে লড়াই করে আসলে কিছুই বদলায় না। প্রশাসন যদি আমাদের সুযোগ দেয়, আমরা কাজ করে বাঁচতে চাই।’ পুলিশ সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক অনুদান, পুনর্বাসন প্যাকেজ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। অনেককে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগও। এদিনের এই লাল গালিচা শুধু আনুষ্ঠানিক চমক নয়, বরং এক নতুন সূচনার প্রতীক। যেখানে বন্দুকের নল আর নয়, গণতন্ত্রের পথে হাঁটাই এখন অগ্রাধিকার। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘যতটা প্রয়োজন কঠোরতা দেখানো হবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে সহানুভূতির পরশও। কারণ লক্ষ্য একটাই — হিংসা নয়, মানুষকে ফিরিয়ে আনতে হবে সমাজের মূল স্রোতে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!