- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
ভূত ছাড়াতে গায়ে আগুন যুবককে, ২ দিন ধরে চলল প্রহার! পুলিশের রিপোর্ট তলব মহকুমাশাসকের
ভূত ছাড়াতে গোটা গায়ে আগুনের ছ্যাঁকা যুবককে। সেইসঙ্গে ঝাঁটাপেটা। ওঝার ঝাড়ফুঁক। কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের এমনই নৃশংস নমুনার সাক্ষী রইল কালনা ২নং ব্লকের বৈদ্যপুর পঞ্চায়েতের তালা গ্রাম। ঘটনাটি শুনেই প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের কালনা শাখা। সহ-সভাপতি তাপস কুমার কার্ফা বললেন, ‘কুসংস্কারের শিকার ওই যুবককে বাঁচাতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইছি।’ জানালেন, ‘বিজ্ঞান মঞ্চ খুব শীঘ্র তালা গ্রামে গিয়ে সচেতনতা প্রচার করবে।’ কালনার মহকুমাশাসক অহিনসা জৈন শুক্রবার জানান, ‘সংশ্লিষ্ট ব্লক প্রশাসন ও পুলিশকে ঘটনা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট দেখে ব্যবস্থা।’
তালা গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, বছর বাইশের যুবক রাকেশ ক্ষেত্রপালের হাতে পায়ে দড়ি বেঁধে তার গায়ে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া হচ্ছে। যন্ত্রণায় ককিয়ে উঠছে রাকেশ। বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছে। কিন্তু ‘ভূতে ধরা’ ওই যুবককে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসছে না। টানা ২ দিন দফায় দফায় এই অকথ্য অত্যাচার চলছে। ঘরের মধ্যে কাপড়ের আড়ালে চলছে ভূত ছাড়ানোর কাজ। গ্রামেরই এক মহিলা ওঝার এই কাণ্ডে হতবাক এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষজন। যুবকের মা মায়া ক্ষেত্রপালের ব্যাখ্যা, তাদের বাড়ির এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু পিণ্ড দেওয়া হয়নি। তাই ভূতে ধরেছে। বিষয়টি সম্পর্কে গ্রামের কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। ব্যাপারটা চাউর হতে গা-ঢাকা দিয়েছে ওঝা। এটাকে ‘কুসংস্কারের নেশার ভর করা’ বলে মনে করেন কালনা বিজ্ঞান মঞ্চের সহকারী সভাপতি তাপস কুমার কার্ফা। তিনি বললেন, ‘একবিংশ শতকেও ভূতের অস্তিত্ব মানা যায় না। পুলিশ প্রশাসন পঞ্চায়েত সচেতন নাগরিক সকলে মিলে এমন ঘটনা রুখতে হবে। পুনরাবৃত্তি আটকাতে সচেতনতা প্রচার করতে হবে।’
❤ Support Us





