- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৫
মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে হকফোর্সের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৩ মহিলা মাওবাদী
বুধবার মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে হকফোর্স ও রাজ্য পুলিশের যৌথবাহিনীর সঙ্গে সংষর্ষে ৩ মহিলা নকশাল নিহত হয়েছেন। ‘ যৌথবাহিনীকে এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়ে, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘এ রাজ্যে নকশালদের কোন জায়গা নেই’।
ছত্তিশগড় থেকে মধ্যপ্রদেশ দুই রাজ্যে নকশাল বিরোধী অভিযানে একের পর এক বড়ো সাফল্য নিরাপত্তাবাহিনীর। মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে ৩ মহিলা মাওবাদী নিহত হয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুয়াযী, বালাঘাট জেলায় গরহি থানা একালায় রাউন্ডা ও সুপখার মধ্যবর্তী জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে নকশালপন্থীদের সংঘর্ষ বাঁধে। দীর্ঘ লড়াইয়ে ৩ মহিলা জঙ্গি নিহত হন। তাঁদের কাছ থেকে রাইফেল, গ্রেনেড সহ প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। মনে করা হচ্ছে নিহতেরা ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন নকশাল এ লড়াইয়ে আহত হয়েছেন। ঘন জঙ্গলের সুবিধা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন তাঁরা। যদিও হক ফোর্স, সিআরপিএফ, কোবরা ও জেলাপুলিশের ১২ টি যৌথ দল তাঁদের খোঁজে চিরুনি তল্লাসী চালিয়ে যাচ্ছে।
যৌথবাহিনীকে এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকার ২০২৬-এর মধ্যে মধ্যপ্রদেশকে নকশালমুক্ত করবার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নকশাল ও মাওবাদী মুক্ত দেশ গড়বার স্বপ্নের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি মধ্যপ্রদেশ পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের মধ্যে এই সম্ভাবনা আছে যে আগামী দিনে তাঁরা মধ্যপ্রদেশকে চরমপন্থী মুক্ত করবে। আমরা নিরাপত্তাবাহিনিকে সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত। আমি আশা করবো, যতক্ষন না পর্যন্ত অভিযান সম্পূর্ণ হচ্ছে, বাহিনীর কেউ স্বস্তির শ্বাস ফেলবেন না। আজ বালাঘাটে ৩ জন নারী নকশাল জঙ্গি নিহত হয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।’ আগামী দিনেও এরকম অভিযান ক্রমাগত চালানো হবে বলে জানান তিনি।
মাওবাদী ও নকশাল চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য অভিযান চালাচ্ছে যোথবাহিনী। লাগাতার সংঘর্ষের খবর আসছে ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ থেকে। রাজ্যগুলিকে নিষিদ্ধ চরমপন্থী দলের প্রভাব থেকে মুক্ত করার জন্য ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। সম্প্রতিককালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক বার দাবি করেছেন, মাওবাদী দমনে সাফল্য এসেছে। আগামী দিনে দেশ সন্ত্রাসমুক্ত হবে। গতবছর সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটের জঙ্গলেই নিরাপত্তাবাহিনী বিজাপুরের বাসিন্দা কামলু নামে ২৫ বছর বয়সি এক নকশাল নেতাকে খতম করে। যার মাথার দাম ছিল ১৪ লক্ষ টাকা। এরও আগে গত বছর এপ্রিলে এই জঙ্গলেই চরমপন্থী দলের দুই মহিলা এরিয়া কমান্ডার সহ আরেকজন শীর্ষ নেতা যৌথবাহিনীর গুলিতে মারা যায়। এই দুইজনের মধ্যে ছিলেন ক্রান্তি নামে এক মহিলা। যার মাথার দাম ছিল ২৯ লক্ষ টাকা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছিল একে-৪৭ রাইফেল, ১২ বোরের রাইফেল-সহ বিপুল অস্ত্র। নকশাল সমস্যা মোকাবেলায়, বালাঘাট পুলিশ গত বছর ৮ জন নকশালকে হত্যা করেছে।
❤ Support Us







