- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
ঘন কুয়াশায় দিল্লি–মুম্বই মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ২০টি গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ৪
দিল্লি–মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে মরশুমের প্রথম ঘন কুয়াশা ডেকে আনল মর্মান্তিক বিপর্যয়। সোমবার ভোরে প্রায় ৫টা নাগাদ এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশে পরপর ধাক্কায় জড়িয়ে পড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গাড়ি। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ জন, যাঁদের মধ্যে ২জন পুলিশকর্মী। গুরুতর আহত অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, ভোরের ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। সে অবস্থায় প্রথমে ২টি অতিরিক্ত বোঝাই ডাম্পার ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তার পরই পেছন দিক থেকে আসা পেয়ারা বোঝাই একটি ট্রাক ওই ডাম্পারগুলিকে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে ট্রাকটি উল্টে যায় এবং এক্সপ্রেসওয়ের উপর ছড়িয়ে পড়ে বিপুল পরিমাণ পেয়ারা। রাস্তায় ফল ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কুয়াশার কারণে এমনিতেই সামনের রাস্তা দেখা যাচ্ছিল না, তার উপর পিচ্ছিল হয়ে পড়া সড়কে পরপর গাড়ি ব্রেক করতে ব্যর্থ হয়। ফলস্বরূপ একের পর এক গাড়ি একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেতে থাকে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো এলাকা জুড়ে তৈরি হয় বিশাল যানজট ও ধ্বংসস্তূপের ছবি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল। আহতদের উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ ছিল এক্সপ্রেসওয়ের ওই অংশে যান চলাচল। পরে ক্রেন ও উদ্ধারযন্ত্রের সাহায্যে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি সরিয়ে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এ দুর্ঘটনা নতুন করে নজরে আনল উত্তর ভারতের কুয়াশাজনিত সড়ক বিপদের ভয়াবহতা। রবিবারও হরিয়ানার বিভিন্ন জেলায় একাধিক বড়ো দুর্ঘটনা ঘটেছে। রোহতকের মেহাম এলাকায় একটি হাইওয়ে মোড়ে ৩৫ থেকে ৪০টি গাড়ি, মূলত ট্রাক, একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সেখানে প্রথমে একটি ট্রাক ও একটি গাড়ির সংঘর্ষের পরই শুরু হয় সংঘর্ষের ‘চেন রিঅ্যাকশন’। হিসারের জাতীয় সড়ক ৫২-তে ধিক্তানা মোড়ে সকাল ৮টা নাগাদ একটি বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। তার পর পরই আরও একটি বাস, একটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। রেওয়ারির জাতীয় সড়ক ৩৫২-তেও ঘন কুয়াশার কারণে ৩ থেকে ৪টি বাসের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক দিন ধরেই হরিয়ানা সহ পাশ্ববর্তী রাজ্যের উপর দিয়ে বয়ে চলেছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। মৌসম ভবন (আইএমডি) আগেই ‘কোল্ড ওয়েভ অ্যালার্ট’ জারি করে সতর্ক করেছিল। পূর্বাভাসে জানানো হয়েছিল, বেশ কিছু এলাকায় তাপমাত্রা আরও নামতে পারে। সে সঙ্গে কোথাও কোথাও ঘন কুয়াশা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। কুয়াশার কারণে গাড়ি চালানোর সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সতর্কতা ও আগাম ব্যবস্থার অভাবই বিপর্যয়কে এমন ধারাবাহিক এর ভয়াবহ করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন কুয়াশায় গাড়ি চালানোর সময় গতি কম রাখা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং হঠাৎ ব্রেক এড়িয়ে চলাই এই মুহুর্তে একমাত্র উপায়। নচেৎ মুহূর্তের অসতর্কতাই বদলে দিতে পারে বহু জীবনের ভবিষ্যৎ।
❤ Support Us






