Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • এপ্রিল ১২, ২০২৫

পাকিস্তানে জোড়া ভূমিকম্পের থাবা, কেঁপে উঠল জম্মু-কাশ্মীরও

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পাকিস্তানে জোড়া ভূমিকম্পের থাবা, কেঁপে উঠল জম্মু-কাশ্মীরও

জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান। কম্পন অনুভূত জম্মু-কাশ্মীরেও। প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। একই দিনে তাজিকিস্তান, পাপুয়া নিউগিনিতে ভূকম্পন অনুভূত হয়। একাধিক আফটার শকের আশঙ্কা করছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি ।

শনিবার দুপুরে ৫.৮ মাত্রার প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকা। কম্পনের তীব্রতা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এর প্রভাব পাকিস্তানের পাশাপাশি ভারতেও অনুভূত হয়। জম্মু-কাশ্মীরে আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। যদিও ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত প্রাণহানী বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায় নি।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে পাকিস্তানে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ৩৩.৬৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৭২.৪৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিমি গভীরে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। কেন্দ্রের গভিরতা কম হবার ফলে তীব্রতার পরিমাণ আরো বেশি অনুভূত হয়েছে। একাধিক আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে। জানা যাচ্ছে, আজ পরপর ২ বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে পরশি দেশের মাটি। ভূপৃষ্ঠের অগভীর স্থানে কম্পনের কেন্দ্রস্থল হলে, সাধারণত গভীর ভূমিকম্পের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর হয়। কারণ, ভূমিকম্পের কম্পন তরঙ্গগুলোকে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে কম পথ অতিক্রম করতে হয়। ফলে কম্পন তীব্র হয়, ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও বেড়ে যায়। পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। দেশটি একাধিক সক্রিয় সঞ্চারণশীল প্লেটের উপর ভাসমান। এই অঞ্চলে প্রায়শই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। অনেক সময় তা ধ্বংসাত্মকও হয়ে দাঁড়ায়।

ভূতাত্ত্বিকভাবে পাকিস্তান ইউরেশিয়ান ও ভারতীয় টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ-স্থলে অবস্থিত। বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া ও গিলগিট-বালতিস্তান ইউরেশিয়ান প্লেটের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। সিন্ধ, পাঞ্জাব এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর দক্ষিণ এশিয়ার ভারতীয় প্লেটের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। ফলে, এই এলাকাটি ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হয়েছিল ২০০৫ সালে, পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে। ৭.৬ মাত্রার সেই ভংকর কম্পনে প্রায় ৭৪,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীর অঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র মুজাফ্ফরাবাদ থেকে ১২ মাইল উত্তর-পূর্বে। বিপুল প্রাণহানী ছাড়াও ওই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

শনিবার দুপুরে পাকিস্তানের প্রতিবেশী তাজিকিস্তানে ও পাপুয়া নিউগিনিতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তাজিকিস্তানে কম্পনের সেটির মাত্রা ছিল ৪.২, গভীরতা ১১০ কিমি।পাপুয়া নিউ গিনির নিউ আয়ারল্যান্ড অঞ্চলে ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। খবর অনুসারে, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল কোকোপো থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের ৭২ কিলোমিটার গভীরে। এর আগে, ৫ এপ্রিল পাকিস্তানের অন্য প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানেও ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, যার গভীরতা ছিল ৯০ কিমি।

উল্লেখ্য, ২৮ মার্চ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মায়ানমারে ভয়াবহ ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। তছনছ হয়ে যায় সবকিছু। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার জনেরও বেশি মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া দিয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। ঘরছারা আরো হাজার হাজার মানুষ। ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এর কম্পন ব্যাংকক থেকে ভারতের দিল্লি-এনসিআর পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল। ভূমিকম্পের প্রভাব কেবল মায়ানমারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও একটি বহুতল ধসে কমপক্ষে ৩০ জন মারা যান। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে এর তথ্য অনুযায়ী, মায়ানমার ভূমিকম্পের ক্ষেত্রেও উৎপত্তিস্থল ছিল অগভীর।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!