Advertisement
  • এই মুহূর্তে বৈষয়িক
  • নভেম্বর ২৫, ২০২৫

শিল্প সম্মেলনের আগেই রাজ্যে বিনিয়োগের ঢেউ, জঙ্গলমহলে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শিল্প সম্মেলনের আগেই রাজ্যে বিনিয়োগের ঢেউ, জঙ্গলমহলে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

ডিসেম্বরের শিল্প সম্মেলনের আগেই জঙ্গলমহলের শিল্পাঞ্চলে এসেছে বিপুল বিনিয়োগের প্রস্তাব। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতরের সূত্রে খবর, জঙ্গলমহল সংলগ্ন ৪ জেলায় মোট সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা পড়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ প্রস্তাব ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছে। দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব প্রকল্প আগামী দেড় বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হলে অন্তত ১৮–২০ হাজার মানুষ সরাসরি কাজ পাবেন। পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে আরো বেশি। বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়ার বিনিয়োগের পরিমাণ যথাক্রমে ৪,৫৯০ কোটি, ৫৯০ কোটি, ৩৫০ কোটি এবং ৯০ কোটি টাকা। নবান্ন সূত্রের খবর, প্রস্তাবগুলোর বেশিরভাগই প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছে, বাকি কিছু প্রস্তাব নিয়ে এখনও পর্যালোচনা চলছে।

শিল্প দফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, বিনিয়োগ আসায় জঙ্গলমহলের শিল্প মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। ‘পরিবহণ, খাদ্য সরবরাহ, হোটেল, জ্বালানি, পরিষেবা এবং অন্যান্য সহায়ক খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে শুধু শিল্পই নয়, পুরো অর্থনীতিকেই নতুন মাত্রা দেওয়া সম্ভব হবে।’ জানান এক শীর্ষ আধিকারিক। বছরের পর বছর প্রশাসনের নানা উদ্যোগ, যেমন রাস্তা সম্প্রসারণ, শিল্প পার্ক স্থাপন, লজিস্টিক হাব তৈরি ও নীতিগত প্রণোদনা সত্ত্বেও এই অঞ্চলে বডড়ো শিল্পকে আকৃষ্ট করা চ্যালেঞ্জ ছিল। এবার বিনিয়োগ আসায় এটিকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসাবেই দেখছে নবান্ন।

পাশাপাশি রাজ্যে আরও আধুনিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জে মন্ত্রিসভার অনুমোদনে মঙ্গলপুর ও ভক্তারনগরের ২০৫ একর জমি শিল্প উন্নয়ন নিগমের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও আসানসোলের ধর্মায় সাত একর জমিতে অত্যাধুনিক শিল্প পার্ক তৈরি করা হবে। এখানে ছোট ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য আধুনিক পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ, রাস্তা সহ সব সুবিধা থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছেন। নবান্নের এক সূত্র জানিয়েছে, শিল্পায়নে গতিশীলতা আনতে সাম্প্রতিক ‘সিনারজি ও বিজনেস এনেবলমেন্ট’ সম্মেলন, লাইসেন্স ইস্যুর দ্রুততা এবং সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাজনৈতিক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই বিনিয়োগ ও শিল্প প্রসার আগামী বছরের রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ১৮ ডিসেম্বরের শিল্প সম্মেলনে মঞ্চে উঠে আসবে। জঙ্গলমহলে শিল্প ও কর্মসংস্থানের এ সম্ভাবনা এলাকায় অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াবে, এ আশাই করছে প্রশাসন ও শিল্প মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!