- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৬, ২০২৫
মধ্যপ্রদেশে ৫০,০০০ ‘ভূত’ কর্মী। ২৩০ কোটি টাকার বেতন স্ক্যামে তোলপাড় রাজ্য
মধ্যপ্রদেশ সরকারের ৫০,০০০ কর্মী প্রায় ছয় মাস ধরে বেতন পান নি। এই সরকারি কর্মীরা খাতায় কলমে উপস্থিত থাকলেও, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তাদের বেতন প্রক্রিয়া বন্ধ বলে অভিযোগ। রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় গুরুতর অনিয়ম হয়েছে বলে আশঙ্কা। আর তা যদি সত্যি হয়, তাহলে দেশের কোনো রাজ্যের ইতিহাসের এটি অন্যতম বিপুল বেতন স্ক্যাম হতে পারে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র তথ্যানুসারে, একাধিক নথি থেকে জানা গেছে, বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে প্রায় ৫০,০০০ কর্মী সরকারি নথিতে উপস্থিত রয়েছেন, তাদের নাম, কর্মী কোডও রয়েছে, তবে কোনো অজানা কারণে, গত ৬ মাস ধরে তাদের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। তবে প্রশ্ন উঠছে—এই কর্মীরা কি ছুটিতে আছেন? নাকি তারা সাসপেন্ড হয়ে গেছেন? নাকি তারা আসলে ‘ভুত’ কর্মী?
মধ্যপ্রদেশের ট্রেজারি ও অ্যাকাউন্টস কমিশনার ২৩ মে তারিখে একটি চিঠি পাঠিয়ে, এই অস্বাভাবিক ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আইএফএমআইএস সিস্টেমের অধীনে ৫০,০০০ কর্মীর বেতন প্রক্রিয়া করা হয়নি, তাদের কর্মী কোড সত্ত্বেও যাচাই অসম্পূর্ণ, তাঁরা চাকরি ছেড়েছেন কি না এরও কোনো তথ্য নেই।’ এই চিঠি অনুযায়ী, প্রায় ৬,০০০ ড্রয়িং ও ডিসবর্সিং অফিসার বা ডিডিও-কে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। তাদের ১৫ দিনের মধ্যে এই অস্বাভাবিকতার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনা সত্যি হলে প্রায় ২৩০ কোটি টাকার জালিয়াতির আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে ট্রেজারি ও অ্যাকাউন্টস কমিশনার ভাস্কর লক্ষ্মকর জানিয়েছেন, ‘আমরা নিয়মিত তথ্য বিশ্লেষণ করে থাকি। এক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছি। এটি কোনো বেতন নেওয়া প্রক্রিয়ার অংশ নয়। আমরা কোনো ধরণের দুর্নীতি বরদাস্ত করবো না।’
মধ্যপ্রদেশে বিতর্কিত ৫০,০০০ কর্মীর মধ্যে ৪০,০০০ নিয়মিত কর্মী এবং ১০,০০০ অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। মোট বেতনের পরিমাণ ২৩০ কোটি টাকা। বেতন পরিশোধ না হওয়া কিংবা ‘প্রস্থান প্রক্রিয়া’ সম্পন্ন না হওয়ার কারণে প্রশাসনে ‘ভুত’ কর্মী থাকার সন্দেহ বাড়ছে। অর্থনীতি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘যদি কেউ ৬ মাস ধরে বেতন না পায়, অথবা কোনো ব্যক্তির চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হয়, তবে তা ভীষণ গুরুতর সমস্যা।’ প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকার কতটা নিশ্চিত যে, ৫০,০০০ ‘ভুত’ কর্মী পদে নেই? এই কর্মীরা কোন দফতরে কর্মরত? রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের কার্যক্রম কীভাবে চলেছে যদি ৯ শতাংশ কর্মী অনুপস্থিত থাকে?
মধ্যপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী জগদীশ দেবদাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি যথাযথ কোনো উত্তর দিতে পারেন নি, তিনি বলেছেন, ‘যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, তা নিয়ম অনুযায়ী করা হয়।’ পুনরায় তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘যা ঘটবে, তা নিয়ম অনুযায়ী হবে। মধ্যপ্রদেশে এহেন পরিস্থিতি রাজ্য সরকারের জন্য গভীর আশঙ্কার সংকেত। এই ‘জালিয়াতি’র ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা সামনে আসছে।
❤ Support Us






