- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ৩, ২০২৬
ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে পাক যোগ ? আসামে গ্রেফতার ৬
সংগঠিত আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় এক মহিলাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে অসম পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সন্দেহ করছে যে এই চক্রটির সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার যোগসূত্র রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স অভিযান চালায়। এরপর গুয়াহাটির বিভিন্ন স্থান থেকে ৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। শোনিতপুর জেলা পুলিশের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এসটিএফ মামলাটি নথিভুক্ত করেছে। এক বিবৃতিতে অসম পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই চক্রের প্রধান অভিযুক্ত অসমের বাইরে থেকে অন্য সদস্যদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করত।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত মর্জিনা বেগমের নামে থাকা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্টে মাত্র ৪৭ দিনের মধ্যে লক্ষ লক্ষ টাকা জমা করা হয়েছিল। এই সময়কালটি ছিল ২০২৬ সালের ২২ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিবার টাকা জমা দেওয়ার পরপরই তা তুলে নেওয়া হত। এটা লেনদেনের একটা সন্দেহজনক ধরণ নির্দেশ করে।
পুলিশের বিবৃতি অনুসারে, আরও তদন্তে গুয়াহাটির বাসিন্দা মোহাম্মদ মফিজুল হক (২২) এবং হিমাংশু দাসের (১৯) নামও উঠে এসেছে। মর্জিনা বেগমের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত সন্দেহজনক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে তারা দুজনই অভিযুক্ত। এই অ্যাকাউন্টটি একজন পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্টের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ২৮ অক্টোবর অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে মর্জিনা বেগমসহ ৩ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও আপত্তিকর নথি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় মফিজুল হক ও হিমাংশু দাস এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও বেশ কয়েকজনের নাম প্রকাশ করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ২৯ অক্টোবর রাকিব হোসেন (৩৪), ৩০ অক্টোবর ইফতার হোসেন (২৫) এবং আরমান আজুজু হক (২০) গ্রেপ্তার হয়।
পুলিশ জানিয়েছে যে, এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনায় গুয়াহাটি সিটি পুলিশও এসটিএফকে সহায়তা করেছে। এই অভিযান চলাকালে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাংক পাসবুক, এটিএম কার্ড এবং অসংখ্য নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, এই আর্থিক প্রতাররণা চক্রটি প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অংশে সক্রিয় ছিল। জালিয়াতিপূর্ণ আর্থিক লেনদেন চালানোর জন্য অন্য ব্যক্তিদের নামে খোলা বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছিল। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য আরও তদন্ত চলছে।
❤ Support Us








