Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ৩, ২০২৬

উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ তুষারঝড়ে নিখোঁজ বাঁকুড়ার পাঁচ অভিযাত্রী ! হেলিকপ্টারে শুরু তল্লাশি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ তুষারঝড়ে নিখোঁজ বাঁকুড়ার পাঁচ অভিযাত্রী ! হেলিকপ্টারে শুরু তল্লাশি

উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিং করতে গিয়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে পড়লেন বাঙালি অভিযাত্রীদের একটি দল। নিখোঁজ রয়েছেন বাঁকুড়ার পাঁচ বাসিন্দা-সহ মোট আট জন। তাঁদের সন্ধানে দুর্গম হিমালয় পর্বত এলাকায় হেলিকপ্টার নামিয়ে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে উত্তরাখণ্ড প্রশাসন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ বারবার বাধার মুখে পড়ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে নিখোঁজ অভিযাত্রীদের পরিবারের উদ্বেগ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রীতে পৌঁছেছিলেন আট জনের একটি অভিযাত্রী দল। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতাল পর্যন্ত ট্রেকিং করার। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকুড়ার শালবনি গ্রামের বাসিন্দা তাপস বাউড়ি, রতন ঘোষ, রিন্টু মণ্ডল ও উদয় ঘোষ। এ ছাড়া বাঁকুড়ার কেশরা গ্রামের বাসিন্দা মনোজ খাওয়াসও ওই দলে ছিলেন। বাকি তিন জনের মধ্যে দু’জন উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের বাসিন্দা এবং একজন উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর বাসিন্দা।

আট জনের মূল অভিযাত্রী দলের সঙ্গে শেরপা ও সহকারী মিলিয়ে আরও চার জন ছিলেন। গত ৩০ অক্টোবর পাহাড় থেকে কোনও রকমে নেমে আসা ওই দলের সদস্যরাই আট অভিযাত্রীর তুষারঝড়ের কবলে পড়ার খবর জানান। এরপরই তাঁদের উদ্ধারে তৎপর হয় উত্তরাখণ্ড প্রশাসন। উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যাভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির হেলিকপ্টারের সাহায্যে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) গত দু’দিন ধরে হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ আট জনের কোনও সন্ধান মেলেনি।

উত্তরাখণ্ড সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, উচ্চ হিমালয় এলাকায় আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল। ঘন তুষারপাত ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান মাঝেমধ্যেই ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিখোঁজ অভিযাত্রীদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হলেও এখনও কোনও সাফল্য আসেনি।

এদিকে, নিখোঁজদের বাড়িতে কার্যত উৎকণ্ঠার পরিবেশ। কখনও ফোনের অপেক্ষা, কখনও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও খবর পাওয়ার আশায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। নিখোঁজ রিন্টু মণ্ডলের দাদা সিন্টু মণ্ডল জানিয়েছেন, ছোট থেকেই পাহাড়ে চড়ার নেশা তাঁর ভাইয়ের। প্রতি বছর পুজোর সময় বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন তিনি। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সিন্টু বলেন, “গত সোমবার ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তার পর থেকে ফোন সুইচড অফ বলছে। খুবই উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে।”

অন্য দিকে, নিখোঁজ তাপস বাউড়ির বাবা লালমোহন বাউড়ি জানিয়েছেন, কালীপুজোর আগেই বাড়ি ফিরে আসার কথা দিয়েছিলেন তাঁর ছেলে। কিন্তু সোমবার পুলিশ বাড়িতে এসে তাঁদের জানায়, অভিযাত্রীদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের। তাঁর কথায়, “এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে দিন কাটছে, তা আমরাই জানি।”

উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ডে সাম্প্রতিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শুক্রবার বদরীনাথ থেকে পাঁচ পুণ্যার্থীকে নিয়ে দেহরাদূনের দিকে যাওয়ার সময় জোশীমঠের হাতি পর্বতে ভেঙে পড়ে একটি চপার। ওই দুর্ঘটনায় পাইলট-সহ মোট ছ’জনের মৃত্যু হয়। মৃত পাঁচ যাত্রীই কর্নাটকের বাসিন্দা ছিলেন। পাইলটের বাড়ি ছিল দিল্লিতে।

দুর্ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের অসামরিক বিমান পরিবহণ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইউসিএডিএ) জানায়, ওই দিন খারাপ আবহাওয়ার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। এমনকী, সমস্ত ধরনের উড়ান বন্ধ রাখার নির্দেশও জারি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কেন ওই চপারটিকে ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উত্তরাখণ্ড রাজ্য প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট উড়ান সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

একদিকে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, অন্যদিকে তুষারঝড়ে আট অভিযাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা—পরপর এই দুই ঘটনায় উত্তরাখণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা ও আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন একটাই অপেক্ষা, দ্রুত নিখোঁজ আট অভিযাত্রীর সন্ধান মিলুক এবং তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হোক।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!