Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ২৫, ২০২৩

র‍্যাগিং কান্ডে অভিযুক্তরা নির্দোষ প্রমানিত হলে তবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশে অনুমতি, বিজ্ঞপ্তি জারি কর্তৃপক্ষের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
র‍্যাগিং কান্ডে অভিযুক্তরা নির্দোষ প্রমানিত হলে তবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশে অনুমতি,  বিজ্ঞপ্তি জারি কর্তৃপক্ষের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযুক্ত ৬ ছাত্রের বিরুদ্ধে নির্দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞার জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই বিজ্ঞপ্তি দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একটা বড় অংশ বলেছেন, এসব নতুন কিছু নয়, এই নিয়মটা ছিল, আছে। ওরা বিজ্ঞপ্তি জারি করল। এসব নাটক না করে মূল ঘটনার তদন্ত করে বিষয়টি আগে ওই প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনার নিস্পত্তি করুক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই বিজ্ঞপ্তিতে যে ৬ ছাত্রের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে দীপশেখর দত্ত, মনোতোষ ঘোষ, আসিফ আনসারি, সত্যব্রত সরকার, অঙ্কন সরকার, মহম্মদ আরিফ- এই ৬ জন অভিযুক্তের নাম। এদের বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও মেন হস্টেলে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত সৌরভ চৌধুরীর নাম ওই বিজ্ঞপ্তিতে নেই। কারণ, সৌরভ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্র নন।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতদিন না অভিযুক্তরা আইনের চোখে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণিত করতে পারছেন, ততদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করতে তো পারবেনই  না, এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলও তাদের প্রবেশ নিষেধ । রেজিস্ট্রার অফিস থেকে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দফতরে।

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হস্টেলের এ-১ ব্লকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় বাংলা বিভাগের এক নবাগত ছাত্রের। এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠে। বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয় রাজ্য। দেশজুড়ে সমলোচনার মুখে পড়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে বারবার। উত্তাল পরিস্থিতিতেই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হন ১২ জন। অন্যতম অভিযুক্ত হিসাবে নাম জড়ায় সৌরভ চৌধুরী-সহ একাধিক বর্তমান ছাত্রের।

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির রিপোর্টে প্রকাশ্যে আসে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য। যদিও তার পর অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউয়ের তত্ত্বাবধানে তৈরি হয় নতুন অ্যান্টি র‍্যাগিং স্কোয়াড। তা নিয়েও বিতর্ক আরম্ভ হয়। ইসি অর্থাৎ কার্যনির্বাহী সমিতির বৈঠকেও উত্তেজনা হয়। রাতভোর বৈঠকের পর অমীমাংসিত ভাবেই শেষ হয় ওই বৈঠক। ফের একই ইস্যুতে বসে বৈঠক। সেখানেও কোনও সমস্যার সমাধান হয়নি। তার পর উপাচার্য নিজেই অবস্থানে বসে নজির সৃষ্টি করেন।

এর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে দেখা করেন মৃত পড়ুয়ার বাবা, মা । মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁরা তাঁদের সন্তানের হত্যাকারীদের সাজার দাবি জানান। বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন তাই মুখ্যমন্ত্রী সেই জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব তাঁদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবারের পাশে থাকার, মৃতের ভাইয়ের লেখাপড়ার দায়িত্ব সরকারি ভাবে নেওয়ার, মৃতের মায়ের কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে মৃত ছাত্রের বাবা, মায়ের হৃদয়ে সন্তান হারানোর জ্বালা এখনো প্রশমিত হয়নি। কারণ এখনও কেউ দোষীর সাজা পাননি। এখনো ছেলের মৃত্যুর জন্য অভিযুক্তদের সাজার অপেক্ষায় একরাশ যন্ত্রণা বুকে নিয়ে দিনযাপন করছেন ওই মৃত ছাত্রের বাবা ও মা, কারণ এখনও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে কাউকে দোষীর সাজা দেওয়া হয়নি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!