Advertisement
  • বৈষয়িক
  • ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

এপ্রিলেই শুরু ৬ পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কের সংযুক্তিকরণ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এপ্রিলেই শুরু ৬ পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কের সংযুক্তিকরণ

এপ্রিল মাস থেকেই পুনরায় সরকারি ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। সূত্রে খবর২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের পর ভারতের পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক গুলোর আরেক দফা একীকরণ কার্যক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ১২টি ব্যাঙ্ককে ৬ টিতে নামিয়ে আনা হবে। পরবর্তী পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে সংযুক্তিকরণ চালু করা হবে এবং চূড়ান্তভাবে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা টি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে সীমিত হবে।  কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক মহল মনে করছেভারতের দ্রুতবর্ধমান অর্থনীতি ও বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য এখন আর ছোটো ব্যাঙ্ক’ নয়বড় প্রতিষ্ঠানই অপরিহার্য।

বর্তমান পরিকল্পনার আওতায় প্রাথমিকভাবে যে চারটি ব্যাঙ্ককে সংযুক্ত করার বিষয়টি আলোচনার মধ্যে আছেতা হলো ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকসেন্ট্রাল ব্যাংকব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং ব্যাংক অব মহারাষ্ট্র। এই চারটিকে হয় একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হবেঅথবা অন্য কোনো বৃহৎ ব্যাঙ্কের  সঙ্গে মিলিয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। সূত্রের খবরপরবর্তীতে ইউকো এবং পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ককেও একইভাবে সংযুক্তিকরণের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিকভাবে এ সংযুক্তির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে অনুপাদিত সম্পদের পরিমাণ কমানোডিজিটাল ব্যাঙ্কিং বিস্তৃত করা এবং আকারে বৃদ্ধি করা। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেনএ পদক্ষেপ ভারতের ব্যাঙ্কগুলিকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করবে এবং বিশ্বের বৃহৎ ব্যাঙ্কের  সঙ্গে তুলনায় ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলিও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।

যদিও, ভারতের ব্যাঙ্কিং খাতে সংযুক্তির ইতিহাস নতুন নয়। ২০১৭ সালে দেশের ২৭টি ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। সে সময়ে টি সহযোগী ব্যাঙ্ককে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল স্টেট ব্যাঙ্কের সঙ্গেযা একটি বৃহৎ জাতীয় ব্যাঙ্ক তৈরি করে। ২০১৯ সালে বিজয়া ব্যাঙ্ক এবং দেনা ব্যাঙ্ককে ব্যাঙ্ক অব বরোদার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। এরপর ২০২০ সালে ঘটে দেশের সবচেয়ে বড়ো সংযুক্তিকরণযেখানে একঝাঁক ব্যাঙ্কের পৃথক অস্তিত্ব বিলোপ করা হয়। এবারও প্রাথমিকভাবে টি ব্যাংকের সংযুক্তি হবেএবং পরে আরও ২টিকে সংযুক্ত করা হবে।

সংযুক্তি প্রক্রিয়ার ইতিহাসে কর্মী সংক্ষেপণ সাধারণত হয়নি। ২০১৭ সাল থেকে যেসব সংযুক্তি হয়েছেসেখানে কর্মীদের অবসর নেওয়া হলেও নতুন নিয়োগের মাধ্যমে ব্যালান্স রাখা হয়েছে। তবে এবার ইতিমধ্যেই কর্মী ও অফিসার্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যেসংযুক্তিকরণের সঙ্গে সঙ্গে অবসরের সঙ্গে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিলতা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। অর্থাৎকর্মীরা অবসর নিচ্ছেনকিন্তু নতুন নিয়োগ সেই হারে হচ্ছে নাফলে পরোক্ষভাবে কর্মী সংকোচন ঘটছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেনএবার ধাপে ধাপে সংযুক্তিকরণ করলে প্রযুক্তি ও শাখার সমন্বয় সহজ হবেকর্মী ও গ্রাহকের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাংকের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঋণদানের ক্ষমতাও শক্তিশালী হবে। বড় ব্যাঙ্কগুলো মূলধন সংগ্রহে সক্ষম হবেঝুঁকি হ্রাসে সাহায্য করবে এবং দেশে মেগা প্রকল্প ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অর্থায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অভিজ্ঞ ব্যাঙ্কিং পরামর্শক আর. মেহতা বলেছে, ‘ভারতের অর্থনীতি এখন বিশ্বের মধ্যে শীর্ষের দিকে যাচ্ছেকিন্তু আমাদের ব্যাঙ্কগুলো আকারে এখনো বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছায়নি। সংযুক্তি দ্রুততম পথ এই মানদণ্ডে পৌঁছানোর।’ বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, বড়ো প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে পারবেসাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে পারবেযা ছোটো ব্যাঙ্কগুলোর জন্য প্রায় অসম্ভব। ফলে আশা করা হচ্ছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে ভারতের পাবলিক ব্যঙ্কিং খাতের মানচিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে। টি বা টি শক্তিশালী ব্যাঙ্কই দেশের অর্থনীতি প্রবাহের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবেআর নিয়ন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!