Advertisement
  • এই মুহূর্তে বৈষয়িক
  • ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত, ৮৭,৬৯৫ কোটি টাকার বকেয়া ছাড় ভোডাফোন-আইডিয়াকে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত, ৮৭,৬৯৫ কোটি টাকার বকেয়া ছাড় ভোডাফোন-আইডিয়াকে

ঋণের ভারে জর্জরিত ভোডাফোন-আইডিয়ার জন্য বছর শেষে স্বস্তির বার্তা দিল কেন্দ্র। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দেশের এই টেলিকম সংস্থার জন্য বহু প্রতীক্ষিত রিলিফ প্যাকেজে ছাড়পত্র দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোডাফোন-আইডিয়ার ‘অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউ’ সংক্রান্ত প্রায় ৮৭,৬৯৫ কোটি টাকার বকেয়া আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই বিপুল অঙ্কের টাকা এখনই পরিশোধ করতে হবে না সংস্থাটিকে। বরং দীর্ঘমেয়াদি সময়সীমা দিয়ে ধাপে ধাপে তা মেটানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, ২০৩১–৩২ অর্থবর্ষ থেকে শুরু করে ২০৪০–৪১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত টানা ১০ বছরে ওই বকেয়া পরিশোধ করতে পারবে ভোডাফোন-আইডিয়া। ফলে স্বল্পমেয়াদে সংস্থার উপর থেকে নগদ টাকার চাপ অনেকটাই কমবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

তবে এই ছাড় সব বছরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ২০১৭–১৮ এবং ২০১৮–১৯ অর্থবর্ষের ‘এজিআর’ বকেয়ার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না। ওই সময়ের বকেয়া আগেই চূড়ান্ত হয়েছে এবং তা আগের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই মেটাতে হবে ভোডাফোন-আইডিয়াকে। সূত্রের খবর, ২০২৫–২৬ থেকে ২০৩০–৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে ওই ২ বছরের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে সংস্থাটিকে। এদিকে, স্থগিত রাখা ‘এজিআর’ বকেয়ার অঙ্কও চূড়ান্ত নয় বলেই জানা যাচ্ছে। ‘ডিডাকশন ভেরিফিকেশন গাইডলাইনস’ এবং বিভিন্ন অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে টেলিকম দফতর ভবিষ্যতে এই অঙ্ক পুনর্মূল্যায়ন করবে। সেই মূল্যায়নের পর সরকার নিযুক্ত একটি কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, শেষ পর্যন্ত কত টাকা ভোডাফোন-আইডিয়াকে মেটাতে হবে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ভোডাফোন-আইডিয়ার আর্থিক অবস্থার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই সুদ ও জরিমানা-সহ একাধিক বকেয়ার ভারে নাজেহাল ছিল সংস্থাটি। এই বিপুল দায় মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছিল সংস্থাটিকে, পাশাপাশি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং পরিষেবা উন্নয়নের মতো বিনিয়োগ পরিকল্পনাও কার্যত থমকে গিয়েছিল। তবে এত বড়ো স্বস্তির সিদ্ধান্তের পরেও শেয়ারবাজারে তার তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যায়নি। বুধবার লেনদেনের শেষে ভোডাফোন-আইডিয়ার শেয়ার দর প্রায় ১৫ শতাংশ পড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১০.২৫ টাকায়। বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার প্রভাবই শেয়ার দরে প্রতিফলিত হয়েছে। যদিও তাঁদেরই আরেক অংশের মত, দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত প্রতিযোগিতামূলক টেলিকম বাজারে ভোডাফোন-আইডিয়ার টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়াবে।

উল্লেখ্য, ভোডাফোন-আইডিয়ায় সরকারের অংশীদারিত্ব প্রায় ৪৯ শতাংশ। ফলে সংস্থাটির আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দেশের প্রায় ২০ কোটি গ্রাহকের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই রিলিফ প্যাকেজের ফলে নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, পরিষেবার মান বাড়ানো এবং গ্রাহক ধরে রাখার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও বাড়তি সুযোগ পাবে সংস্থাটি। ‘এজিআর’ বকেয়া সমস্যা নিয়ে অতীতেও একাধিকবার সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছিল ভোডাফোন-আইডিয়া। শেষ পর্যন্ত এই রিলিফ প্যাকেজ অনুমোদন পাওয়ায় টেলিকম শিল্পে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরবে বলেই আশা করছেন অনেকে। যদিও এই প্যাকেজের বিস্তারিত শর্ত এবং ভবিষ্যতের পরিশোধ কাঠামো নিয়ে এখনো সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি আসেনি। ফলে পরবর্তী ধাপে সরকার কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে টেলিকম মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!