- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২৫, ২০২৬
আদেশ নয়, আলোচনাই পথ — তরুণদের মোহন বার্তা, নিট আন্দোলনের আবহে বাড়ল রাজনৈতিক জল্পনা
নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে রাজধানী দিল্লিতে নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে দেশ । যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও । এই পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত । তাঁর বক্তব্য, বর্তমান প্রজন্মকে বিপথগামী বা লক্ষ্যহীন বলে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়; বরং তাদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা ও নিয়মিত যোগাযোগই সময়ের দাবি ।
এ দিন ড. আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে ‘বিশ্ব মঙ্গল্য সভা’-য় যোগ দেন মোহন ভাগবত । সেখানে যুগ পরিবর্তনের কথা বলেন তিনি। মোহন ভাগবতের কথায়, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন বড়দের কথা মেনে চলার যুগ ছিল। কিন্তু এখন সময় বদলে গিয়েছে।’ বর্তমান প্রজন্মকে সঠিক দিশা দেখাতে হলে প্রথমে তাঁদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে বলে মনে করেন তিনি ।
আরএসএস প্রধানের মতে, বর্তমান প্রজন্ম আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রশ্ন করে । তাই অভিভাবক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের উচিত তাদের প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া । একইসঙ্গে তিনি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ কমে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ।
ভাগবত বলেন, “নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করে । আমাদের যুক্তি দিয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। প্রচুর স্নেহ দিতে হবে, তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে ।” তিনি আরও যোগ করেন, “তাদের বিশ্বাসভাজন হতে গেলে আদেশ নয়, আলোচনা করতে হবে ।”
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে একাত্মবোধ ও আপন করে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি । তাঁর কথায়, “একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও ভাববিনিময় করতে হবে । চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং আলোচনা; আদেশ নয়, বরং পারস্পরিক সমঝোতাই কাম্য ।”
যদিও মোহন ভাগবত তাঁর বক্তব্যে সরাসরি যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলন বা নিট প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গের উল্লেখ করেননি, তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ । অনেক বিশ্লেষকের প্রশ্ন, এই বার্তা কি পরোক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশেই ?
উল্লেখ্য, ছাত্র আন্দোলন নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোহন ভাগবত সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি । এদিকে শুক্রবার প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল তাঁর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন । সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, “মোহন ভাগবতজি, যন্তর মন্তরের ঘটনা নিয়ে গত এক মাস ধরে আপনার নীরবতা আপনার দেওয়া উপদেশের চেয়েও বেশি অর্থবহ ।”
অন্যদিকে, যেখানে মোহন ভাগবত তরুণদের মন বোঝার এবং তাদের সঙ্গে সংলাপের ওপর জোর দিচ্ছেন, সেখানে আরএসএসের কার্যনির্বাহী সদস্য ইন্দ্রেশ কুমার ছাত্র আন্দোলনের পেছনে বিদেশি শক্তির ভূমিকার অভিযোগ তুলেছেন । তাঁর দাবি, “এই বিক্ষোভের পেছনে দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যারা চায় না ভারত একটি উন্নত, শক্তিশালী ও শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে উঠুক ।”
❤ Support Us







