- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
মণিপুরে ফের সংঘর্ষ, কুকি জনজাতির চারজন নিহত, গুলিবিদ্ধ শিশু
অশান্তি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মণিপুরের। গত ২৪ ঘণ্টায় তামেনলং জেলায় পৃথক দু’টি ঘটনায় গুলি করে খুন করা হয়েছে কুকি জনজাতির চারজনকে। নিহতদের মধ্যে দু’জন মহিলা। একটি ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে মাত্র ছ’বছরের এক শিশুও। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত নয়। তবে কুকি সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই হামলার পিছনে নাগা জনজাতির দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে। যদিও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠীই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে রবিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ তামেনলং জেলার টোলেন গ্রামে। সেখানে এক কুকি দম্পতির উপর হামলা চালায় একদল অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী। হামলায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার। গুলিবিদ্ধ হন তাঁর স্বামী এবং ছ’বছরের সন্তানও। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে মৃত্যু হয় স্বামীর।
অন্যদিকে, শিশুটির শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর, রবিবার বিকেলে তামেনলং জেলারই লংপি গ্রামে ফের হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে কুকি জনজাতির দু’জনের উপর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। নিহত দু’জনের মধ্যে এক জন মহিলা ছিলেন। এই হামলার পর কুকিদের একটি নাগরিক সংগঠনের দাবি, জেলায় আরও এক মহিলার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
পরপর এই হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহ। বন্দুকবাজদের হামলার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, “এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা বরদাস্ত করা হবে না।” তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি। পুলিশ অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মণিপুরে কুকি ও নাগা জনজাতির মধ্যে সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৯২ সাল থেকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। সেই সংঘর্ষে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে বিভিন্ন হিসাব।
এর পর ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই ও কুকি জনজাতির মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই সংঘাতে ২৬০-রও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা অশান্তির জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়।
সংঘাত শুরুর প্রায় ২১ মাস পর, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মণিপুরের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ পদত্যাগ করেন। এর চার দিন পর, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। প্রায় এক বছর পর, ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করা হয়। এরপর বিজেপির ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও মণিপুরে বিচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা অব্যাহত থাকায় ফের প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে। তামেনলংয়ের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে হামলাকারীদের পরিচয় ও হামলার প্রকৃত কারণ কত দ্রুত সামনে আসে, এখন সেটাই দেখার।
❤ Support Us








