Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

সমাজমাধ্যমে শিশুদের যৌন নিগ্রহ রুখতে ‘নিরাপত্তা বলয়’ চায় সুপ্রিম কোর্ট, কেন্দ্রকে নোটিস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সমাজমাধ্যমে শিশুদের যৌন নিগ্রহ রুখতে ‘নিরাপত্তা বলয়’ চায় সুপ্রিম কোর্ট, কেন্দ্রকে নোটিস

সমাজমাধ্যম-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নিগ্রহ, শোষণ এবং সাইবার বুলিং থেকে সুরক্ষা দিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা জানতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। শিশুদের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে একটি কার্যকর নিরাপত্তা বলয় বা ‘ফায়ারওয়াল’ তৈরির দাবি জানিয়ে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এ নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটি শুনছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন অ্যালায়েন্স’ এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছে। মামলাকারীদের বক্তব্য, বর্তমানে অধিকাংশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে বহু শিশু নিজেদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে সক্ষম হচ্ছে। এর ফলে তারা সহজেই সাইবার অপরাধ, যৌন শোষণ আর অনুপযুক্ত ‘কনটেন্ট’-এর ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

মামলাকারীদের অভিযোগ, বয়স যাচাইয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শিশুদের সামনে এমন বহু কনটেন্টও চলে আসছে, যা মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নিগ্রহ, শোষণ এবং সাইবার বুলিংয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে। এহেন পরিস্থিতিতে শিশুদের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একটি পৃথক ও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের সুরক্ষার জন্য ‘ফায়ারওয়াল’ বা নিরাপত্তা বলয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন একটি সুরক্ষা কাঠামো থাকা জরুরি, যা তাদের অনুপযুক্ত ও বিপজ্জনক কনটেন্ট এবং সম্ভাব্য সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষা করতে পারে।

মামলাকারীরা আরও জানিয়েছেন, ১৮৭২ সালের ভারতীয় চুক্তি আইনের ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী নাবালকরা কোনো ধরনের আইনি চুক্তি করার যোগ্য নয়। অথচ সমাজমাধ্যম বা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন শর্তাবলিতে সম্মতি জানাতে হয়। মামলাকারীদের প্রশ্ন, নাবালকদের ক্ষেত্রে যখন আইন চুক্তিগত সুরক্ষা দেয়, তখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেই সুরক্ষা কেন প্রযোজ্য হবে না? এ যুক্তির ভিত্তিতে মামলাকারীদের আবেদন, ১৮ বছরের কম বয়সিরা কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে সম্মতি জানালেও সেই সম্মতির আইনি বৈধতা থাকা উচিত নয় — এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে সমস্ত সমাজমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনেও প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অন্যতম দাবি, ১৮ বছরের কম বয়সিদের সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হোক। সেই সঙ্গে ই-কেওয়াইসি অথবা অন্য কোনো স্বীকৃত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিভাবকের পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাও চালু করার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে মামলাকারীরা স্পষ্ট করেছেন, তারা শিশুদের ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের বিরোধী নন।

তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন, জ্ঞান বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যম শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য হলো, শিশুরা যাতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে যৌন নিগ্রহ, শোষণ, সাইবার বুলিং এবং অনুপযুক্ত ‘কনটেন্ট’-এর মতো ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকে। এ  লক্ষ্যেই শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় আইন, নীতি ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আর্জি জানানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মামলায় কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!