Advertisement
  • বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

নয়াদিল্লিতে ইরান-আমিরশাহির বৈঠকে আশার ইঙ্গিত, সংঘাত অতিক্রম করে খুলবে শান্তি দোড় ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নয়াদিল্লিতে ইরান-আমিরশাহির বৈঠকে আশার ইঙ্গিত, সংঘাত অতিক্রম করে খুলবে শান্তি দোড় ?

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে চলা সংঘাতের আবহে অবশেষে মুখোমুখি হল ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ভারতের আয়োজিত ব্রিক্‌স সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক নতুন করে শান্তি ও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দু’দিনের ব্রিক্‌স সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। অন্য দিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহয়ান। সম্মেলনের ফাঁকে পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম দুই দেশের রাষ্ট্রনেতারা মুখোমুখি আলোচনায় বসলেন।

রবিবার ইরানে ফিরে যাওয়ার আগে আমিরশাহির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন পেজ়েশকিয়ান। ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের প্রকাশিত বিবৃতিতে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘আবু ধাবির যুবরাজের সঙ্গে আমাদের খুব ভাল আলোচনা হয়েছে। আমরা অতীতকে পিছনে রেখে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছি।’’
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, রাশিয়া ও চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। তবে সেই আলোচনা মূলত সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও আগামী দিনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ইরান ও আমিরশাহির সম্পর্কের অবনতি ঘটে সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে কেন্দ্র করে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের উপর হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। এর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে তেহরান।

এই সংঘাতের আঁচ গিয়ে পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও। দেশটির একাধিক এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা আছড়ে পড়ে। আমিরশাহিকে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখে ইরান। তেহরানের অভিযোগ ছিল, আমিরশাহির ভূখণ্ডে থাকা ঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী বার বার ইরানের উপর হামলা চালিয়েছে। অন্য দিকে, আমিরশাহি এই হামলা নিয়ে একাধিক বার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ তলানিতে গিয়ে ঠেকে।

এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির ব্রিক্‌স সম্মেলন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি—দু’দেশই ব্রিক্‌সের সদস্য। সম্মেলন শেষে শনিবার সদস্য দেশগুলির যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বিবৃতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ব্রিক্‌সের যৌথ বিবৃতিতে অবশ্য কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, দীর্ঘ টানাপড়েনের পর ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি—দুই দেশই ওই যৌথ বিবৃতিতে সম্মতি জানিয়েছে।

এর আগে গত মে মাসে ব্রিক্‌সের সদস্য দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেছিলেন। সেই সময় রাশিয়ার পক্ষ থেকেও ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লির মাটিতে সেই প্রত্যাশিত যোগাযোগ তৈরি হল।

পেজ়েশকিয়ানের ‘অতীতকে পিছনে রেখে ভবিষ্যতের দিকে তাকানো’র বার্তা এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের সরাসরি বৈঠক তাই কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এখন দেখার, নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া এই সংলাপ আগামী দিনে ইরান-আমিরশাহি সম্পর্কের বরফ গলিয়ে সত্যিই শান্তি ও সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করতে পারে কি না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!