Advertisement
  • বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ থেকে ইস্তফা হাসিনা কন্যার পদত্যাগ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ থেকে ইস্তফা হাসিনা কন্যার পদত্যাগ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিকর্তার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুললেন শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বুধবার ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তার ঠিক এক দিন আগে, ৮ সেপ্টেম্বর, সায়মাকে পদ থেকে সরানোর সুপারিশ করেছিল ‘হু’-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কমিটি।

এরপরই এক সাক্ষাৎকারে সায়মার দাবি, শেখ হাসিনার কন্যা হওয়ার কারণেই তাঁকে রাজনৈতিক ভাবে নিশানা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁর মায়ের রাজনৈতিক বিরোধীরাই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন। সায়মা বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার কন্যা। আর হ্যাঁ, আমায় রাজনৈতিক ভাবে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর (হাসিনা) শত্রুরা আমায় লক্ষ্যবস্তু করেছে।’ সাক্ষাৎকারে ‘হু’-র মহাপরিচালক টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সায়মা। তাঁর দাবি, গেব্রিয়েসাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠার সময়ও তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয়নি। এমনকি ‘হু’-র প্রধানকে সবেতন ছুটিতেও পাঠানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।সায়মার প্রশ্ন, তাহলে কেন তাঁকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বেতনহীন ছুটিতে পাঠানো হলো? পদত্যাগপত্রেও ‘হু’-র প্রধানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে।  এর পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ‘হু’ সায়মাকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠায়। পদত্যাগের আগে পর্যন্ত সেই ছুটিতেই ছিলেন তিনি। সায়মার অভিযোগ, ‘হু’-র মহাপরিচালক টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন। এই যোগাযোগের প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘হু’ এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগ ‘কূটনৈতিক বিধির পরিপন্থী’।

চিন সফরে গিয়ে সায়মা ওয়াজেদ আর্থিক দুর্নীতি করেছিলেন বলে ‘হু’-র তরফে অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যদিও, এসব অভিযোগগুলি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন সায়মা। গত ৩ জুলাই তাঁর আইনজীবীরা ‘হু’-কে একটি চিঠি দিয়ে অভিযোগগুলি খারিজ করেন। সাক্ষাৎকারে সায়মা দাবি করেন, চিন সফর সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই ওই সফর শেষ পর্যন্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।

২০২৩ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির ভোটে ‘হু’-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিকর্তার পদে নির্বাচিত হন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে ৫ বছরের জন্য ওই পদে নিযুক্ত করা হয়।তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা বিতর্কের মধ্যে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিন বেতনহীন ছুটিতে থাকার পর অবশেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন সায়মা।পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছিলেন, ‘প্রায় এক বছর আপনার নির্দেশে আমি বেতন বা সাম্মানিক ছাড়াই ছুটিতে রয়েছি। আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নিজের পদত্যাগের কারণ আরও বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করেন হাসিনা-কন্যা। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছিলেন।সায়মা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে বেতন ছাড়াই ছুটিতে থাকার ফলে তিনি মানসিক ও আর্থিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত এবং আর্থিক ভাবে নিঃশেষিত। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে আমার কোনো কাজ নেই।এখন ফের কাজে ফিরতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি। পৃথিবীর জন্য ইতিবাচক কিছু করার লক্ষ্যে নিজেকে আবার কাজে নিয়োজিত করতে চান সায়মা। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি ফের কাজে ফিরতে চাই এবং পৃথিবীতে ভাল কিছু করার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!