- বৈষয়িক
- জানুয়ারি ১২, ২০২৬
ভারতে সোনার ও রুপোর দামে সর্বকালীন রেকর্ড
ভারতে সোনা ও রুপোর দাম নতুন করে সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির ধারাবাহিক কেনাকাটা এবং বিশ্বজুড়ে সহায়ক নীতির প্রত্যাশা—এই সবকিছু মিলিয়ে মূল্যবান ধাতুর বাজারে জোরালো ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক তীব্র উত্থানের পর দাম কিছুটা ঠান্ডা হলেও বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা ও রুপোর সামগ্রিক প্রবণতা এখনও দৃঢ়ভাবে ইতিবাচক।
এনরিচ মানির সিইও পোনমুদি আর-এর মতে, সাম্প্রতিক মূল্য স্থিতিশীলতা আসলে স্বাভাবিক মুনাফা তোলার ফল, ট্রেন্ড দুর্বল হওয়ার লক্ষণ নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে কমেক্সে সোনা সর্বকালীন উচ্চতা ছুঁয়ে ৪,৬১২.৭০ ডলারে পৌঁছানোর পর কিছুটা নেমে বর্তমানে প্রায় ৪,৫৮২ ডলারের আশপাশে লেনদেন হচ্ছে। তিনি বলেন, সোনার দাম এখনও ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ডলাইন এবং ২০ দিনের এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ (প্রায় ৪,৫০০ ডলার) এর অনেক ওপরে রয়েছে, যা শক্তিশালী আপট্রেন্ডের ইঙ্গিত দেয়। আগে যেখানে ৪,৫০০–৪,৫৫০ ডলার ছিল রেজিস্ট্যান্স, সেটাই এখন শক্ত সাপোর্ট জোনে পরিণত হয়েছে।
পোনমুদির মতে, নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনা এবং বিশ্বব্যাপী নমনীয় নীতির প্রত্যাশা সোনার দামে দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন জোগাচ্ছে। ৪,৬০০ ডলারের ওপরে টেকসই ব্রেকআউট হলে আগামী দিনে দাম ৪,৭০০ থেকে ৪,৮০০ ডলারের দিকে এগোতে পারে।
দেশীয় বাজারে এমসিএক্সে সোনা বর্তমানে প্রায় ১,৪০,৭৮০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে, যেখানে ইতিমধ্যেই সর্বকালীন উচ্চতা ছিল ১,৪১,২৫০ টাকা। পোনমুদি জানান, সোনা এখনো ঊর্ধ্বমুখী চ্যানেলের মধ্যে উচ্চতর উচ্চতা ও উচ্চতর নিম্নস্তরের কাঠামো বজায় রেখেছে। ২০ দিনের ইএমএ প্রায় ১,৩৮,০০০ টাকার কাছে শক্ত সাপোর্ট হিসেবে কাজ করছে। তাঁর মতে, দাম পড়লেই ক্রেতারা সক্রিয় হচ্ছেন। ১,৪২,০০০ টাকার ওপরে টেকসই গতি এলে লক্ষ্য হতে পারে ১,৪৫,০০০ থেকে ১,৪৮,০০০ টাকা, আর ১,৩৮,০০০–১,৩৯,০০০ টাকার অঞ্চলকে ‘বাই অন ডিপস’ জোন হিসেবে দেখা যেতে পারে।
বর্তমান র্যালিতে সোনার তুলনায় রুপো আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রের শক্তিশালী চাহিদা রুপোর দামকে সমর্থন করছে। কমেক্সে রুপো প্রায় ৮৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছে এবং সর্বকালীন উচ্চতা ছোঁয়ার পরও স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি মুভিং এভারেজের অনেক ওপরে অবস্থান করছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি কনসোলিডেশন থেকে শক্তিশালী ব্রেকআউটের ইঙ্গিত।
পোনমুদি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি নিরাপদ বিনিয়োগের আগ্রহ রুপোর দামে গতি জোগাচ্ছে। ৮৩ ডলারের আশপাশে মাঝে মাঝে মুনাফা তোলার চাপ এলেও, ৮৫ ডলারের ওপরে স্পষ্ট ব্রেকআউট হলে দাম ৯০ থেকে ৯৫ ডলারের দিকে যেতে পারে। অন্যদিকে ৭৮–৮০ ডলারের অঞ্চল শক্ত সাপোর্ট হিসেবে কাজ করছে।
দেশীয় বাজারে এমসিএক্সে রুপো বর্তমানে প্রায় ২,৬১,০০০ থেকে ২,৬২,০০০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে এবং একটি শক্তিশালী বুলিশ চ্যানেলের মধ্যে রয়েছে। পোনমুদির মতে, দাম কমলেই আক্রমণাত্মকভাবে কেনা হচ্ছে, যা রুপোকে মূল্যবান ধাতুর মধ্যে ‘হাই-বিটা লিডার’ হিসেবে তুলে ধরছে। ২,৬৫,০০০ টাকার ওপরে শক্ত অবস্থান থাকলে ঊর্ধ্বমুখী গতি বজায় থাকবে। ২,৭০,০০০ টাকার ওপরে ব্রেকআউট হলে দাম ২,৮০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ টাকার দিকে যেতে পারে। নিচের দিকে সংশোধন হলে ২,৫৫,০০০ টাকায় প্রাথমিক সাপোর্ট এবং আরও শক্ত ক্রয় আগ্রহ ২,৪৮,০০০ থেকে ২,৪৫,০০০ টাকার মধ্যে দেখা যেতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল বার্তা হল—সাম্প্রতিক উত্থানের পর স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা বাড়লেও, সোনা ও রুপোর দীর্ঘমেয়াদি ট্রেন্ড এখনো অটুট। অনিশ্চয়তার সময়ে সোনা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য উপযোগী। রুপো বেশি রিটার্নের সম্ভাবনা দিলেও দামের ওঠানামা তীব্র হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্যায়ে তাড়াহুড়ো করে কেনার চেয়ে ধৈর্য ধরাই ভালো। দরপতনের সময় ধাপে ধাপে কেনা এবং সোনা–রুপোর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ বিনিয়োগ কৌশল অনুসরণ করাই এমন এক বাজারে বেশি কার্যকর হতে পারে, যা এখনো বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার দ্বারা চালিত।
❤ Support Us








